রংপুরে চার খুন

হত্যার পর সেই বাড়িতে গোসল, খেজুর-শসাও খান দুজন

Four murders in Rangpur
অনলাইন ডেস্ক ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০৫:২০ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০৫:২০ অপরাহ্ন
হত্যার পর সেই বাড়িতে গোসল, খেজুর-শসাও খান দুজন
রংপুররের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।--সংগৃহীত ছবি

রংপুররের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়িতেই গোসল, খেজুর ও শসা খাওয়াসহ খুনের ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন তারা।


রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। তার কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


গ্রেপ্তার দুজন হলেন—মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস। সিদ্ধার্থ নগরীর পিকে জুয়েলার্সে কাজ করেন। আর মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করেন।


পুলিশ কমিশনার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির বাসায় তা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।


এ সময় অভিযুক্তরা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন বলে পুলিশ জানায়। শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে আসার সময় সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।


কমিশনার বলেন, ‘মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী সেখানে এলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যা করতে ৪-৫ মিনিট সময় লাগে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গামছার পাশাপাশি গলা ও বুকে রশি পেঁচিয়ে টানা হয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায়।’


‘সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে খেলাধুলা করত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে তাকেও হত্যা করা হয়।’


পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ওই বাড়ির বাথরুমে গিয়ে গোসল করে। পরে ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায়। এরপর সেখানে আরও একটি ইয়াবা সেবন করে তারা।


তদন্তকারীদের দাবি, দুটি স্মার্টফোন থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মুছে ফেলতে তারা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে মোবাইল দুটি চুবিয়ে রাখেন।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার পরীক্ষা করতে গ্রেপ্তারকৃতরা আগুন জ্বালিয়েছিলেন। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখেন তারা।


পরে মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে স্বর্ণালংকারগুলো লুকিয়ে রাখা হয়। পুলিশ উদ্ধার করেছে।


পুলিশ কমিশনার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সকাল হওয়ায় লোকজনের চলাচল বেশি থাকায় তারা বের হওয়ার জন্য সুযোগ খুঁজছিলেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় ওই সময় তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।


এ ঘটনায় রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানান পুলিশ কমিশনার।