হারপিক খেয়ে প্রাণ গেল মা-মেয়ের, বাবা আটক
নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক কলহের জেরে হারপিক পান করে এক নারী ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আড়াই বছর বয়সী ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুর সোয়া একটার দিকে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উর্মি তার স্বামী মিলনের সঙ্গে মাধবদী থানার বসুন্ধরা এলাকার কান্দাপাড়া এলাকায় শেফালী বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে উর্মি ও মিলনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মনোমালিন্য হতো।
ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার দিন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মিলন উর্মিকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। এর জেরে উর্মি দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান।
পরে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় গিয়ে উর্মি হারপিকজাতীয় তরল পান করেন এবং তার দুই সন্তানকেও তা পান করান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে অটোরিকশায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সদর হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উর্মিকে মৃত ঘোষণা করেন। তার দুই সন্তানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মিম ও আবিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আবিরকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় উর্মির মা নার্গিস বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর বুধবার রাতেই বাবা মিলন মিয়াকে আটক করে পুলিশ।
মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক মিলনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার দুপুরে নরসিংদীর আদালতে পাঠানো হয়। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’