রুয়েট কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক দশক পূর্তি উদযাপন
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক দশক পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ‘কেমিক্যাল জুবিলি—১০ বছর পূর্তি উদযাপন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, গবেষণাভিত্তিক সেমিনার, বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রুয়েট শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে, কেক কেটে ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুর রহমান সহ বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
২০১৫ সালে যাত্রা শুরুর পর রুয়েট কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সফলতার সঙ্গে দেশের প্রকৌশল অঙ্গনে ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘ দশ বছর ব্যাপী সফলতা উদযাপন উপলক্ষ্যে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও সোসাইটি অব প্রসেস ইঞ্জিনিয়ার্স যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। এতে বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল ওয়াটা কেমিক্যালস এবং সহ-পৃষ্ঠপোষক নাবিল গ্রুপ। স্বাগত সহযোগী হিসেবে ওয়াটসন গ্রুপ, আবাসন সহযোগী এডিআই ইন্টারন্যাশনাল এবং পরিধান সহযোগী হিসেবে আমেরিকান অ্যান্ড ইফোর্ড (বাংলাদেশ) লিমিটেড ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম সহযোগী।
এ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘অন্বেষণ ২.০—আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় তিন মিনিটের থিসিস চ্যালেঞ্জ’। ১৬ হাজার টাকার পুরস্কার মূল্যের এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা গবেষণার জটিল বিষয় মাত্র তিন মিনিটে সহজ, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের সুযোগ পান। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এ আয়োজনে গবেষণাকে সহজবোধ্য ভাবে উপস্থাপনের ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অন্যদিক আজ (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত ‘কেম ই কুইজ’ এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ‘অন্বেষণ ২.০’ অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে মূলত শিক্ষার্থীরা রাসায়নিক প্রকৌশল সম্পর্কে তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ পান। এদিন বিকেল ৪টায় শিল্পবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক সংযুক্তি, পেশাগত সক্ষমতা অর্জন সহ নানামুখী দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। এরপর সন্ধ্যা পুরস্কার বিতরণী, বার্ষিক সাধারণ সভা এবং বনভোজনের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিলিভারের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান, পেট্রোম্যাক্স এলপিজি লিমিটেডের মোংলা প্ল্যান্টের প্রধান মো. আমানউল্লাহ এবং প্রতিষ্ঠানের হিউম্যান রিসোর্স বিভাগের এক্সিকিউটিভ এমডি সাফকাত সাবাব গাজী।
এসময় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ জানিয়ে মো. আমানউল্লাহ বলেন, “পেট্রোলিয়াম ও এলপিজি খাত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন ও অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতে বিপুল সম্ভাবনা পাশাপাশি নিরাপত্তা, দক্ষতা, ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় তোমাদের দক্ষ কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গড়ে উঠতে হবে। রুয়েটের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ভিত্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রশংসনীয়। তবে শিল্পখাতে সফল হতে হলে একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব পরিবেশে কাজ ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। এর মাধ্যমেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব সমস্যা সমাধান এবং গবেষণাকে বাস্তব প্রয়োগে রূপ দেওয়ার সুযোগ হবে। ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় এখন থেকেই নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্পসংশ্লিষ্ট জ্ঞান অর্জন এবং পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানাই।”
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের অংশ হিসেবে রুয়েট অডিটোরিয়ামে বিশেষ কনসার্ট আয়োজন করা হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড 'সোনার বাংলা সার্কাস'। কনসার্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আগ্রহী দর্শকেরা সরাসরি সংগীত উপভোগ করেন।
আয়োজকেরা জানান, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক দশকের পথচলা, বিভিন্ন অর্জন ও সংশ্লিষ্টদের অবদান স্মরণীয় করে রাখতে এ উদযাপন আয়োজন করা হয়। এ লক্ষ্যেই উৎসবমুখর উদযাপনের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঢালাও ভাবে সাজানো বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।