চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিমের মরদেহ রাজশাহীতে,সে ভয় সত্যি হলো

Body of slain army member Tasneem found in Rajshahi
রাজশাহী ব্যুরো ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:২৬ অপরাহ্ন সারা বাংলা
রাজশাহী ব্যুরো ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:২৬ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিমের মরদেহ রাজশাহীতে,সে ভয় সত্যি হলো

‘আমার সঙ্গে এমন কিছু হলে হয়তো আমার অস্তিত্বও থাকবে না’—কর্মস্থলের ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রায়ই এমন আশঙ্কার কথা বলতেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য তাসনিম রিফায়াত। চাকরি নিয়েও একাধিকবার ভয় ও অনীহার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই যেন সত্যি হলো। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাসনিমের মৃত্যুর খবর রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বাবা আসাদুল হক। খবর পেয়ে বাড়িতে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তাসনিম ছিলেন মেজ। প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাবার মৃত্যুর অর্থ বোঝার মতো বয়সও হয়নি শিশুটির। অথচ বাবার স্মৃতি নিয়েই এখন তাকে বড় হতে হবে।

ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাবা আসাদুল হক বলেন, ‘আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এখন আর চাওয়ার কিছু নেই। ছেলের জন্য সবার কাছে শুধু দোয়া চাই।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, কর্মস্থলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাসনিম নিয়মিত তাদের সঙ্গে কথা বলতেন। ভিডিওকলের মাধ্যমে কর্মস্থলের পরিবেশও দেখাতেন। তবে ফায়ারিং অনুশীলনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর মধ্যে সবসময় উদ্বেগ ছিল।

তাসনিমের ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ বলেন, তাঁর ভাই জানিয়েছিলেন, এর আগে একই ট্যাংকে একই ধরনের দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছিলেন। ঘটনার আগের দিনও তাসনিম ওই ট্যাংকে ফায়ারিং করেছিলেন। পরদিন সেখানে বিস্ফোরণে দুজন নিহত হওয়ার খবর তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন। ওই আগের দুর্ঘটনার বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলেও তাসনিম জানিয়েছিলেন।

শামসাদ বলেন, এসব ঘটনার কারণে তাঁর ভাইয়ের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক কাজ করত। চাকরি নিয়েও তিনি ভীত ছিলেন এবং একাধিকবার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছার কথা পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথাও প্রায়ই বলতেন।

প্রায় এক যুগের সেনাজীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করা তাসনিমের জীবনের শেষ অধ্যায় লেখা হলো একটি ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে অপূরণীয় শোক। ছোট্ট মেয়েটিকে রেখে চলে যাওয়া তাসনিমের মরদেহের অপেক্ষায় বুধবার থেকেই স্বজনরা ছিলেন উৎকণ্ঠায়।

পরিবার সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৯টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসে তাসনিম রিফায়াতের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও কাগজপত্রের জটিলতায় তা বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ রাজশাহীর নিজ বাড়িতে পৌঁছে। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।

এর আগে বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।