ভাঙা হাত নিয়ে স্কুলেই কাতরাচ্ছিল শিশু, ফার্স্ট এইড বক্সে নেই তুলাও

Child was crying at school with a broken arm
রাজশাহী প্রতিনিধি :- ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন সারা বাংলা
রাজশাহী প্রতিনিধি :- ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
ভাঙা হাত নিয়ে স্কুলেই কাতরাচ্ছিল শিশু, ফার্স্ট এইড বক্সে নেই তুলাও
স্কুল ছুটির পর সহপাঠীদের ধাক্কায় পড়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান রাইসার বাম হাত ভেঙে যায়।

স্কুল ছুটির পর সহপাঠীদের ধাক্কায় পড়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান রাইসার বাম হাত ভেঙে যায়। অভিযোগ, গুরুতর আহত শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া তো দূরের কথা, দেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসাও। যন্ত্রণায় কাতর শিশুটিকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি রাজশাহীর সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের।

গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল ছুটির পর এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, রাইসা খেলতে গিয়ে পড়ে গেছে। খবর পেয়ে তার মা স্কুলে ছুটে গিয়ে মেয়েকে যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় দেখতে পান। ভাঙা হাতটি ঝুলে ও বাঁকা হয়ে থাকলেও তাৎক্ষণিক চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার হাত প্লাস্টার করে দেন।

ঘটনার পর স্কুলের ফার্স্ট এইড বক্স পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি পাওয়া যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তুলার মতো মৌলিক উপকরণও না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক। 

তিনি বলেন, “প্রাথমিক চিকিৎসা বক্সে এসব না থাকা গাফিলতি। তবে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।”

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ শিশুটির চিকিৎসা বা শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে, দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ বা উন্মুক্ত জায়গা নেই। শিক্ষার্থীদের চলাচলের স্থানও সংকীর্ণ হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসিব পান্না বলেন, আহত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল। কোনো অভিভাবক সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

বোয়ালিয়া থানা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রোজি খন্দকার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিভাবকদের দাবি—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।