রাজশাহীতে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মী,যৌথ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনে বকেয়া পরিশোধ ও বৈষম্য নিরসনের দাবি
গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মী, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলারদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি, বকেয়া পাওনা এবং ব্যবসায়িক অধিকার আদায়ে রাজশাহীতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর অলকার মোড়ে অবস্থিত ‘মাস্টার শেফ’ রেস্তোরাঁয় ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানার ও যৌথ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে টেলিকম খাতের নানা বৈষম্য ও সংকট তুলে ধরে কয়েকটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়:
২০১০ সাল থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আটকে থাকা সাবেক কর্মীদের ৫% বিলম্ব বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। ২ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাবেক কর্মীরা চরম আর্থিক ও পারিবারিক সংকটে পড়েছেন। আন্দোলন চলাকালে ইতোমধ্যে ছয়জন সাবেক কর্মীর করুণ মৃত্যু হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে অবাস্তব বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করা, কমিশন ও মার্জিন সংকোচন রোধ, একতরফা নীতি পরিবর্তন বন্ধ, বায়োমেট্রিক ও সিম-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং ডিজিটাল রিচার্জ অ্যাপের নানা সীমাবদ্ধতা দূর করার জোর দাবি জানানো হয়।
সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় অফারের শর্তাবলিতে স্বচ্ছতা আনা, অনাকাঙ্ক্ষিত ও স্বয়ংক্রিয় ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (VAS) চার্জ অবিলম্বে বন্ধ করা, কলরেট পুনর্নির্ধারণ এবং নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা থেকে আগত কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোবাশ্বের আহসান বলেন, "আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায়সংগত উপায়ে এই সমস্যার একটি টেকসই সমাধান চাই।"
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিটেইলার প্রতিনিধি মোঃ আমজাদ হোসেন, ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম সুজন এবং সেন্ট্রাল টিমের সদস্য মোরাদ হোসেন, আতাউস সালাম, ইকরামুজ্জামান খান, শামী উদ্দীন, আসিফ হোসেন, মোঃ সারাফাত আলী সরকার, মোঃ সামিউল হক, মহিবুল হাসান, অসীম কুমার, শাহরিয়ার মতিন, সুলতান মাহমুদ ও মশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অনেকে।