ট্রেন থামাতে চেইন টানলেন রাবি শিক্ষার্থী ॥ হেনস্তার অভিযোগ

RU student pulls chain to stop train
আবুল কালাম আজাদ , রাজশাহী :- ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:৩৯ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ , রাজশাহী :- ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
ট্রেন থামাতে চেইন টানলেন রাবি শিক্ষার্থী ॥ হেনস্তার অভিযোগ
ট্রেন থামাতে চেইন টানলেন রাবি শিক্ষার্থী ॥ হেনস্তার অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) স্টেশনে যাত্রাবিরতির  খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের চেইন টানার ঘটনায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে, ট্রেনের ভ্রমণকালীন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছে, চেইন টেনে ট্রেন থামানোর মতো নিয়মভঙ্গের ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীকে আইন অনুযায়ী ন্যূনতম জরিমানা করা হয়েছে মাত্র, হেনস্তা বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগী মৃন্ময় চক্রবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ট্রেন থামাতে চেইন টানার অভিযোগ:-

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে সাগরদাঁড়ি ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে থামছে—এমন তথ্য জানার পর তিনি ওই স্টেশনে নামার উদ্দেশ্যে ট্রেনের চেইন টানেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন বলে তিনি জানান।

মৃন্ময় চক্রবর্তীর অভিযোগ, চেইন টানার পর রেলওয়ের কর্মীরা তাঁদের আটক করেন। তাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং রেলের বিধি অনুযায়ী জরিমানা বা শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও জানান। কিন্তু এর আগেই তাঁকে কটূক্তি, গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়।

মৃন্ময় আরো বলেন, চেইন টানা তাঁদের ভুল হয়েছে এবং এ জন্য তাঁরা ক্ষমাও চেয়েছেন। রেলের আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে, সেটি মেনে নিতে তাঁরা প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, অপমান বা হুমকি দেওয়া উচিত নয়।

রানিং কর্মচারীদের বক্তব্য :-

চলন্ত ট্রেনের রানিং কর্মচারী বলেন,রেলের রোল অনুযায়ী কর্তব্য পালন করলেও অপরাধ, না করলে অপরাধ।টিকিট বিহীন যাত্রীদের টিকিট বানিয়ে দেওয়া হলে তাদেরকে  ঘুষখোর বলা হয়,  মানসিক এমন কি শারীরিক নির্যাতন করা হয় । যেকোনো তুচ্ছ ঘটনায় তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদেরকেই বরখাস্ত করে শাস্তি দিয়ে থাকেন। 

এভাবে চাকরি করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। 

রেলওয়ের বক্তব্য ভিন্ন:-

তবে শিক্ষার্থীকে হেনস্তা বা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম) ফরিদ আহমেদ। তাঁর দাবি, নিয়ম ভঙ্গ করায় ওই শিক্ষার্থীকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ন্যূনতম জরিমানা করা হয়েছে এবং পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হেনস্তা বা মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।

প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আহাসানুল হক ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা একের পর এক ট্রেনে রেলের আইন ভঙ্গ করে যাচ্ছে। কিছু বললেই রেল কর্তৃপক্ষের দোষ। যাত্রী ভোগান্তি করে, শিক্ষার্থীদের ইচ্ছামত তো ট্রেন চালানো সম্ভব নয়। 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাঁদের জানা হয়েছে এবং আপাতত সমাধান হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা যদি সত্যিই হেনস্তার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে উপযুক্ত প্রমাণসহ বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাবে।

আগেও রেলকে ঘিরে উত্তেজনা:-

রাবি শিক্ষার্থী ও রেলওয়ের মধ্যে বিরোধের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের ২১ জুলাই পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রসিদ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে এক রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে টিটিইর বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রতিবাদে ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন।

প্রায় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা রেলপথ অবরোধের কারণে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন রুটের ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত ও তাদের দাবি মেনে নেয়ার পর  সমস্যার সমাধান হয়। 

ওই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিগুলোর মধ্যে অভিযুক্ত রেলকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, পরবর্তী সময়ে রাবি স্টেশনে রাতে পদ্মা এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও তিতুমীর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দেয়া।


নিয়ম ভাঙা বনাম আচরণের প্রশ্ন:-

সর্বশেষ ঘটনায় একদিকে চেইন টেনে চলন্ত ট্রেন থামানোর চেষ্টা রেলওয়ের নিরাপত্তা ও পরিচালনা বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, নিয়মভঙ্গের অভিযোগে কোনো যাত্রী বা শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলকর্মীদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, সেটিও আলোচনায় এসেছে।


রেলওয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মভঙ্গের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট। আর শিক্ষার্থীর অভিযোগ সত্য হলে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।