শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই ইতিহাস গড়লেন লেসি
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রাতটা শেষ হয়েছে হতাশায়। কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডে ব্রাইটনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে তারা। তবে সেই হতাশার মাঝেও ওল্ড ট্রাফোর্ডে নতুন এক গল্প লিখেছেন শিয়া লেসি। ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই গোল করেছেন—এক দশকেরও বেশি সময় পর ইউনাইটেডের কোনো ফুটবলার হিসেবে এমন কীর্তি গড়লেন তিনি।
পূর্ণ অভিষেকে ম্যাচের শুরুতেই গোল করে ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন লেসি। পরে মেসন মাউন্টের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মাইকেল কারিকের দল। কিন্তু সেই দুই গোলের লিডও ধরে রাখতে পারেনি ইউনাইটেড। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ফিরে এসে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাইটন, আর তৃতীয় রাউন্ডেই শেষ হয়ে যায় ইউনাইটেডের কারাবাও কাপ অভিযান।
তবে পরাজয়ের মধ্যেও লেসির পারফরম্যান্স তাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে নেমেই গোল করে নিয়মিত একাদশে আরও সুযোগ পাওয়ার দাবি জোরালো করেছেন তিনি।
আর এই গোলের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ইউনাইটেডের ইতিহাসও। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপা লিগে এফসি মিদতিলান্দের বিপক্ষে ১৮ বছর বয়সী মার্কাস র্যাশফোর্ড প্রথমবারের মতো ইউনাইটেডের হয়ে শুরুর একাদশে নেমে গোল করেছিলেন। এরপর আর কোনো কিশোর ফুটবলার নিজের প্রথম শুরুতেই ইউনাইটেডের হয়ে গোল করতে পারেননি। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন লেসি।
ম্যাচ শেষে অবশ্য লেসির এই বিশেষ মুহূর্তের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায় দলের হারে। দলটির কোচ কারিকও মনে করেন, পরাজয়ের কারণে লেসির বড় অর্জনটি আড়ালে পড়ে গেছে, 'শিয়ার জন্য এটা সত্যিই দুঃখের। তার, তার পরিবার, বন্ধু এবং পুরো একাডেমির জন্য এটা ছিল অসাধারণ একটি মুহূর্ত। কিন্তু হারের পর সেই মুহূর্তটা কিছুটা হারিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তার কাছে এটি অবশ্যই বিশেষ হয়েই থাকবে। তবে আমরা এখন যেভাবে বসে আছি, মনে হচ্ছে ঘটনাটা অনেক আগেই ঘটে গেছে।'