গাছ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে: এমপি মিলন

If trees survive, people will survive
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৪৬ অপরাহ্ন সারা বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৪৬ অপরাহ্ন
গাছ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে: এমপি মিলন
ছবি - বিজয় বাংলা

গোটা বিশ্বে  অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি হচ্ছে। এটা সৃষ্টিকর্তা ব্যালান্স করে। কিন্তু মানুষেল কারনেও বর্তমানে এমনটা হচ্ছে।  মানুষ অক্সিজেন নেয় আর কার্বনডাই ছেড়ে দেয়। সেই কার্বনডাই অক্সাইড গাছ গ্রহন করে পরিশোধন করে আবার ছেড়ে দেয়। আর সেখান থেকে মানুষ অক্সিজেন গ্রহন করেন। গাছের সাথে মানুষের নিবির সম্পর্ক রয়েছে। কিছুদিন আগে সারা বিশ্বে কোভিড/ করোনা দেখা দিয়েছিলো। সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষকে অক্সিজেন নিতে হয়েছে কৃত্তিমভাবে। আর এই একটি সিলিন্ডারের মূল্য আকার ভেদে ৫০০০ থেকে ১০,০০০টাকা পর্যন্ত হয়েছেছিলো। গাছ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।

তাহলে একটি মানুষ ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রাকৃতিকভাবে কত টাকার অকিাসজেন গ্রহন করে তার কোন সঠিক ধারনা নেই বলে বৃহস্পতিবার সকালে খড়খড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও খড়খড়ি উচ্চ বিদ্যালয় আয়োজিত নির্বাচিত বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমুহের উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভবনের উদ্বোধন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপন এবং খড়খড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন, বিতরণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।


প্রতিটি স্থান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ভাল মানুষ তৈরীর কারাখানা হচ্ছে সরকার অনুমদিত সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাল করে লেখাপড়া করলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ভাল মানুষ বের হবে। এছাড়াও আগামী বছরের জানুয়ারী মাস থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের চতুর্থ শ্রেণী থেকে চাহিদা এবং জ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। আর এর মুল কারগরী হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাহিরে ছিলেন। চিকিৎসার জন্য গেলেও তাঁকে পতিত সরকার আর দেশে আসতে দেয়নি। বিএনপির আন্দোলনওে ধারবাহিকতায় ৫আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যখন খুনি হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে ছিলেন তখন দেশে অন্তবর্তীকালীন সরকার আসে। সেই সরকারের আমলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক দেশে আসেন।

জুলাই যোদ্ধাদের শ্রদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বরণ করে তিনি সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের  সুস্থতা কামনা করে বলেন, যে উদ্দেশ্যে নিয়ে এই আন্দোলন তা হচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মানের জন্য। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হচ্ছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ পুত্র।  জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশল স্বাধীরনতার ঘোষক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর ঘোষনার মধ্যে দিয়ে দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে এদেশে লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে ছিলো। তিনি বাংলাদেশ নামক একটি মানচিত্র ছিনিয়ে এনে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।


তিনি আরো বলেন, ৫ আগস্টের পরে তারেক রহমান দেশে এসে প্রথমে দেশের মাটি হাতে নিয়ে গায়ে মাখেন। এরপর তিনি জনতার সাথে দেখা করতে ৩০০ ফিটে যান। সে সময়ে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া মুমুর্ষ অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। জনগণের সাথে দেখে করার পরে তিনি মায়ের কাছে যান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাত্র সাড়ে তিন বছর বাংলাদেশের সেবা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। সে সময়ে তিনি ওআইসির সহ-সভাপতি ও সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি সার্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে জানান তিনি। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন। শুধু তাইনয় তিনি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে টেনে ইমাজিং টাইগারে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।  এজন্য তাঁর প্রতি দেশের মানুষের অনেক কৃতজ্ঞতা। তাঁর মৃত্যুর পরে বেগম খালেদা জিয়া রান্না ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে একটি স্বৈরাচার সরকারকে বিতারিত কওে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন করা হবে। একজন শিশুকে মানুষেল মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাকে সকল প্রকার নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। ভাল পরিবেশ দেয়ার চেষ্টা করবেন। এ শিক্ষা যেন ভালভাবে চলে এরজন্য তিনি প্রতিটি বিদ্যালয়ের নয়া ভবন করা কথা বলেন। সেইসাথে খেলার মাঠ এবং পর্যায়ক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণ করার ঘোষনা দেন তিনি। তিনি দলীয়করণ না করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। যারা স্বেচ্ছায় চলে গেছেন তাদেও উদ্দেশ্যে বলেন, তাদেরকে দেশে এনে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করে আয়নাসহ আয়নাঘরে রাখা হবে।

দেশের বাহিরে যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোন ষড়যন্ত্রই কাজে আসবেনা। ছেলে এবং মেয়ে সবাইকে মানুষেল মত মানুষ হয়ে দেশের উন্নয়নের হাল ধরারা আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্য শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ফলদ গাছের চারা বিতরণ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্কুল মাঠ সমুহে গাছের চারা রোপন করেন।

দুটি বিদ্যালয়ের  কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে খড়খড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মোখলেসুর রহমান ও খড়খড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলী হোসেন, হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সদস্য সচিব বাদশা মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান, পারিনা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক রেজাউল করিম মাস্টার, খড়খড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  প্রধান শিক্ষক  রাবেয়া খাতুন,  খড়খড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী, পবা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মুস্তাক আহমেদ ছোট ও পারিলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাদিকুল ইসলাম স্বপন সহ ও বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীবৃন্দ এবং অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।