এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ, বাড়ি-আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি শনিবার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণসহ উপজেলার আওতাধীন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, ড্রেন ও অন্যান্য স্থানে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে সারাদেশে তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পবা উপজেলাতেও নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলজিইডি প্রকল্পের আওতাধীন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হাতে ঝাড়ু, কোদালসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের রাস্তা, ড্রেন, ঝোপঝাড় ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি পানি জমে থাকা স্থানগুলোও চিহ্নিত করে পরিষ্কার করা হয়। অভিযানের ফলে উপজেলা পরিষদ ভবনের প্রধান ফটক, চত্বর ও আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ড্রেন ও নালায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল অপসারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এম.এম.এন জহুরুল ইসলাম বলেন, “পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে যুব উন্নয়ন দপ্তরের আশপাশের ড্রেন ও নালায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ করা হচ্ছে। অফিসের ফুলের টবে জমে থাকা পানিও নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উঠান বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “সরকারের নির্দেশনায় তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ এলাকায় এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “উপজেলা পরিষদ চত্বরের পাশাপাশি পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।”
ইউএনও আরও বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অভিযানে উপজেলা বিএমডিএ কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী মো. জামিনুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এম.এম.এন জহুরুল ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেলিম রেজা, উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক মো. মামুন-উর-রশিদ, একাউনটেন্ট ক্লার্ক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অংশ নেন।