অর্থের বিনিময়ে ২ মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

Alleged release of 2 drug dealers in exchange for money
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- ০২ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:২৮ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- ০২ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:২৮ অপরাহ্ন
অর্থের বিনিময়ে ২ মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে
অর্থের বিনিময়ে ২ মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল মোতালেবের বিরুদ্ধে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে দুই মাদক কারবারিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


 গত ১৭ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার চর বালিয়াঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটকের পর তাঁদের মধ্যে দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় টাকা লেনদেনের একটি বিকাশ বার্তার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি অভিযোগকারীর।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৭ সেপ্টেম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নের চর বালিয়াঘাটা এলাকায় এসআই মোতালেব ও তাঁর সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালান। এ সময় আব্দুল হান্নান, সাগর আলী ও খালেদা বেগমকে আটক করা হয়। পরে আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। তবে সাগর আলী ও খালেদা বেগমকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


ছাড়া পাওয়া খালেদা বেগমের অভিযোগ, তাঁদের মুক্তির বিনিময়ে এসআই মোতালেব এক লাখ টাকা দাবি করেন। পুরো টাকা দিতে না পারায় কানের দুল ও আংটি বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা এবং বাড়িতে থাকা ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও এসআই মোতালেব তাঁদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়েছেন। তবে খালেদা বেগম নিজেও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।


ঘটনার বিষয়ে দরগা এলাকার বিকাশ ব্যবসায়ী আওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খালেদা বেগমের কানের দুল ও আংটি তাঁর কাছে বন্ধক রয়েছে। এর বিপরীতে তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন।

 ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টা ৬ মিনিটে ৫০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানোর একটি লেনদেনের তথ্যও দেখানো তিনি ।


তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এসআই মো. আব্দুল মোতালেব। তিনি বলেন, ‘আমার নম্বরে কি টাকা দিয়েছে? আমি কোনো টাকা নেইনি। এজাহারে একজন আসামিই ধরা পড়েছে। আমি তিনজনকে ধরিনি।’


অভিযোগে উল্লেখ করা বিকাশ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি নিজেকে বিকাশ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের অন্য একজনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।


এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ওসি বর্তমানে প্রশিক্ষণে আছেন। এসআই মোতালেবের বিরুদ্ধে লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তবে অভিযানে তিনজনকে আটকের অভিযোগ, দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া এবং তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার দাবির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।