যে ৮ আচরণে চিনবেন প্রতারণাপ্রবণ মানুষ
মানুষকে বিশ্বাস করেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক বা কর্মক্ষেত্রের যোগাযোগ। কিন্তু সব সম্পর্কের পেছনে যে সবসময় আন্তরিকতা থাকে, তা নয়।
কেউ কেউ বিশ্বাস অর্জন করে ধীরে ধীরে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি বুঝতে না পারলে আবেগ বা সামাজিক সম্পর্ক সবক্ষেত্রেই ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
কোনো একটি আচরণ দেখেই কাউকে প্রতারক বলা যায় না। বরং একই ধরনের কিছু আচরণ যদি বারবার ঘটতে থাকে, তখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় এমন কিছু আচরণকে সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হয়।
শুরুতেই অস্বাভাবিক প্রশংসা
সম্পর্কের শুরুতেই কেউ যদি আপনাকে নিয়ে অতিরিক্ত প্রশংসা করতে থাকেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলেন কিংবা অস্বাভাবিক আবেগ দেখান, তাহলে একটু সময় নিয়ে তাকে বোঝার চেষ্টা করুন।
কারণ অতিরিক্ত প্রশংসা সবসময় আন্তরিকতার প্রকাশ নাও হতে পারে। কখনো কখনো দ্রুত বিশ্বাস অর্জনের জন্যও এমন আচরণ করা হতে পারে।
কথার মধ্যে বারবার অসঙ্গতি
একদিন এক কথা, আরেকদিন অন্য কথা এ ধরনের আচরণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলে যদি ব্যক্তি বারবার তথ্য পাল্টান, গুরুত্বপূর্ণ অংশ এড়িয়ে যান বা নিজের সুবিধা অনুযায়ী ঘটনার ব্যাখ্যা দেন, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করা উচিত। সত্য গোপন করা কিংবা অর্ধসত্য উপস্থাপন করাও অনেক সময় প্রতারণার অংশ হতে পারে।
প্রয়োজন ফুরোলেই বদলে যায় আচরণ
কেউ যদি প্রয়োজনের সময় আপনাকে অত্যন্ত আপন করেন, কিন্তু প্রয়োজন শেষ হওয়ার পর আপনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, তাহলে সম্পর্কটির প্রকৃতি নিয়ে ভাবা দরকার।
অর্থ ধার নেওয়া, কোনো সুবিধা পাওয়া, পরিচিতির মাধ্যমে কাজ আদায় করা কিংবা অন্য কোনো স্বার্থে আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রবণতা থাকলে সতর্ক থাকা ভালো।
কাছের মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ কমাতে চায়
একটি সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেতগুলোর একটি হতে পারে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করা। কেউ যদি বারবার আপনার পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিরুৎসাহিত করেন বা আপনাকে বোঝাতে চান যে ওই ব্যক্তিই আপনার একমাত্র নির্ভরতার জায়গা তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিশ্রুতি আছে, বাস্তবে নেই
কথা দিয়ে কথা না রাখা অনেকের স্বাভাবিক অভ্যাস হতে পারে। কিন্তু একই ঘটনা যদি নিয়মিত ঘটে এবং প্রতিবারই নতুন অজুহাত তৈরি হয়, তাহলে সেটি আর সাধারণ ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ কমে যায়। বিশেষ করে বড় কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে ওই ব্যক্তির ওপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্ভর করার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
আপনার প্রয়োজনকে গুরুত্ব না দেওয়া
সম্পর্কে একজনের চাওয়া-পাওয়াই যদি সবসময় প্রাধান্য পায়, তাহলে সেটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের লক্ষণ নয়। আপনার প্রয়োজন, মতামত কিংবা সীমারেখাকে উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের ইঙ্গিত হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, কোনো সেবায় টাকা খরচ করা কিংবা আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়াও একই ধরনের আচরণের অংশ হতে পারে।
নিজের ভুল কখনো স্বীকার করে না
মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু কেউ যদি নিজের ভুলের জন্য কখনো দায় স্বীকার না করেন এবং প্রতিটি ঘটনার দায় অন্য ব্যক্তি বা পরিস্থিতির ওপর চাপিয়ে দেন, তাহলে তার আচরণ নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। এ ধরনের মানুষ ভুল স্বীকারের পরিবর্তে অনেক সময় পরিস্থিতিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেন, যেন সমস্যার জন্য সবাই দায়ী, শুধু তিনি নন।
আপনার নিজের উপলব্ধি নিয়েই সন্দেহ তৈরি করে
কেউ যদি বারবার এমনভাবে কথা বলেন যে, আপনি নিজের দেখা ঘটনা, স্মৃতি কিংবা অনুভূতি নিয়েই সন্দেহ করতে শুরু করেন, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যেমন আপনি কোনো ঘটনা স্পষ্টভাবে মনে রাখলেও অন্য ব্যক্তি বারবার দাবি করছেন সেটি ঘটেনি বা আপনার অনুভূতিকে ‘অতিরিক্ত ভাবনা’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন এমন আচরণ করলে নিজের বিচারবোধ নিয়েই একজন মানুষ দ্বিধায় পড়তে পারেন। মনোবিজ্ঞানে এর একটি রূপকে ‘গ্যাসলাইটিং’ বলা হয়।
কী করবেন?
কারও মধ্যে এসব আচরণের একটি দেখা গেলেই তাকে প্রতারক হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মানুষের আচরণের পেছনে পরিস্থিতি, ব্যক্তিত্ব ও সম্পর্কের ধরনসহ নানা কারণ থাকতে পারে। একই ব্যক্তির মধ্যে যদি বারবার মিথ্যা বলা, নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং আপনার সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার মতো আচরণ দেখা যায়, তাহলে দূরত্ব বজায় রাখা এবং সম্পর্কের সীমারেখা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আবেগের পরিবর্তে যাচাই-বাছাইকে গুরুত্ব দেওয়া নিরাপদ।