বাগমারায় ৪ বছরের শিশুকে পৈশাচিক নির্যাতন: রক্তাঙ্কত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি, অভিযুক্ত পলাতক
বাড়ির সামনে খেলছিল চার বছরের নিষ্পাপ শিশুটি, প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ডেকে নেওয়া হয় একটি চালকলে। সেখানে তার ওপর চালানো হয় পৈশাচিক নির্যাতন। রক্তাঙ্কত ও মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত যুবক ইমন (১৮) ঘটনার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইমন ওই গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি চালকলে (রাইস মিল) শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজ বাড়ির সামনে খেলাধুলার সময় ইমন অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে শিশুটিকে চালকলে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
কিছুক্ষণ পর শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে রক্তমাখা ও ভেজা পোশাকে বাড়িতে ফিরে এসে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছোট বাচ্চাটাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে এমন পৈশাচিক নির্যাতন করা হলো! শিশুটির শরীর থেকে তখনো রক্ত ঝরছিল।
আমি এই অপরাধীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
স্বজনরা জানান, ঘটনার পরপরই শিশুটিকে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে শিশুটি রামেক হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত যুবক পলাতক থাকায় তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবহিত হয়েছেন।অপরাধীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।