সাইবার নিরাপত্তায় দেশীয় প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা, এলো ‘গোল্ডলাইফ শিল্ড’
ব্যক্তিগত স্মার্টফোনে আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে ব্যাংক, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি দপ্তর ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব বাড়ছে। ফিশিং, ম্যালওয়্যার, র্যানসমওয়্যার, স্পাইওয়্যার এবং তথ্য চুরির মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজন হচ্ছে সমন্বিত ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এই চাহিদাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এটিসি টেক লিমিটেড’ (ATC Tech Limited) তাদের ‘গোল্ডলাইফ’ ব্র্যান্ডের অধীনে তৈরি করেছে ‘গোল্ডলাইফ শিল্ড’ (GoldLife Shield) নামের সাইবার নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম।
প্রায় ১০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির এই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে তিনটি প্রধান পণ্য—‘গোল্ডলাইফ শিল্ড মোবাইল, ডেস্কটপ করপোরেট এবং এন্টারপ্রাইজ’। ব্যক্তিগত ডিভাইসের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সেবা দেওয়াই এর লক্ষ্য।
গোল্ডলাইফের সাম্প্রতিক অর্জনের মধ্যে রয়েছে গুগল প্লে স্টোরে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের নতুন সংস্করণ প্রকাশ। গুগল প্লে কনসোলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবরসংস্করণ ১.১.৩৫ (ভার্সন কোড ১৩৫) প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাপটির হালনাগাদ ডেটা সেফটি ঘোষণা ও স্টোরের বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে।
মোবাইল সংস্করণটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ‘আর্থিক লেনদেন-সংশ্লিষ্ট অ্যাপের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ’। মোবাইল ব্যাংকিং ও অন্যান্য আর্থিক অ্যাপ ব্যবহারের সময় সম্ভাব্য স্পাইওয়্যার, সন্দেহজনক অ্যাপ, ঝুঁকিপূর্ণ পারমিশন এবং অননুমোদিত কার্যক্রম শনাক্তের ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ছাড়া ডিএনএস-ভিত্তিক সুরক্ষা, ফিশিং ও ক্ষতিকর ডোমেইন শনাক্তকরণ, কল রেকর্ডিং ও লোকেশন ট্র্যাকিং-সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক ফাইল পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, অ্যাপটির ‘ফুল শিল্ড স্ক্যান’ ডিভাইসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ‘শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি নিরাপত্তা স্কোর’ প্রদর্শন করে। ফলে ব্যবহারকারী নিজের ডিভাইসের সম্ভাব্য দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।
এছাড়া উইন্ডোজভিত্তিক ডেস্কটপ ও ল্যাপটপের জন্য তৈরি ‘গোল্ডলাইফ শিল্ড ডেস্কটপ করপোরেট’ সংস্করণে রয়েছে রিয়েল-টাইম ফাইল পর্যবেক্ষণ, ম্যালওয়্যার শনাক্তকরণ, র্যানসমওয়্যার আচরণ বিশ্লেষণ, সন্দেহজনক প্রসেস পর্যবেক্ষণ, স্টার্টআপ নিরাপত্তা, ইউএসবি ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা।
বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি ‘গোল্ডলাইফ শিল্ড এন্টারপ্রাইজ’ সংস্করণে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এটিসি টেক লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, এতে সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (SOC), এন্ডপয়েন্ট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (EDR), সিকিউরিটি ইনফরমেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট (SIEM) এবং এক্সটেন্ডেড ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (XDR) -ভিত্তিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ডিভাইসের অবস্থা, নিরাপত্তা সতর্কতা, ঘটনার ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যায়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উইন্ডোজ ও লিনাক্স সংস্করণ বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ম্যাকওএস পরিবেশে সক্ষমতা সম্প্রসারণের কাজও চলছে। ব্যাংক, সরকারি সংস্থা ও সংবেদনশীল তথ্য পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নিজস্ব অবকাঠামোয় অন-প্রিমাইস স্থাপনের বিকল্প রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর কোন তথ্য সংগ্রহ করছে এবং কীভাবে তা ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। গোল্ডলাইফের লাইসেন্স ব্যবস্থাপনায় লাইসেন্স কী, ডিভাইস শনাক্তকারী তথ্য এবং অ্যাক্টিভেশন-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহৃত হয়। মোবাইল নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইনস্টল করা অ্যাপের পরিচিতি, নিরাপত্তা সংকেত এবং স্ক্যান-সংক্রান্ত কিছু তথ্য নিরাপদ সংযোগের মাধ্যমে সার্ভারে পাঠানো ও সংরক্ষণ করা হতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে শুধু প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য থাকাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কার্যকারিতার পরিমাপ, স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষা, নিয়মিত হালনাগাদ, নির্ভরযোগ্য গ্রাহকসেবা এবং তথ্য সুরক্ষার স্বচ্ছ নীতি। গোল্ডলাইফ শিল্ডের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্মার্টফোন, করপোরেট কম্পিউটার এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত প্রযুক্তি কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা করছে এটিসি টেক লিমিটেড।