রাজশাহীতে ভেষজ চিকিৎসকদের ভূমিকা শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

Workshop on Role of Herbalists
নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন সারা বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে ভেষজ চিকিৎসকদের ভূমিকা শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
রাজশাহীতে ভেষজ চিকিৎসকদের ভূমিকা শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন মেডিসিনাল প্লান্টস এন্ড হারবাল প্রোডাক্টস বিসনেজ প্রমোশন কাউন্সিল এবং হারবাল প্রডাক্ট, কসমেটিক অ্যান্ড ডায়েটারী সাপ্লিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে ‘সুস্থ জীবন যাপনে দেশীয় ফল ও বীজ ব্যবহারে ভেষজ চিকিৎসকদের ভূমিকা’ শীর্ষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বাটুপাড়া এলাকায় ছায়া কাব্য রিসোর্টে সকাল এগারোটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানটিতে প্রধান াতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর রাজশাহী জেলার সহকারী পরিচালক মাখ্নুওন তাবাস্সুম। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন, হারবাল প্রডাক্ট, কসমেটিক অ্যান্ড ডায়েটারী সাপ্লিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ড. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ইউনানী ঔষধ শিল্প সমিতির সেক্রেটারি আনোয়ারুল আলম ভূঁইয়া,  রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও মুসলিম গ্রুপ অব কোম্পানীর চেয়ারম্যান মাসুম সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন, হারবাল প্রডাক্ট, কসমেটিক অ্যান্ড ডায়েটারী সাপ্লিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন বাদল।

প্রশিক্ষণ অধিবেশনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ইউনানী ডক্টর’স সোসাইটির সম্পাদক হাকীম রেজাউল করিম সহ উক্ত সংগঠণের রাজশাহী বিভাগের সভাপতি ও হাকীম আব্দুল মজিদ মিয়া। এছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা হাকীম ও চিকিৎসকরাও উক্ত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।  

বক্তারা বলেন, দেশের বনজ সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার্থে গাছ নিধন যেমন বন্ধ করতে হবে ঠিক তেমনিভাবে ইউনানী-হারবাল ঔষধ উৎপাদনে বিভিন্ন ধরণের ঔষধী গাছ বেশি বেশি করে লাগনোর অভ্যেস করতে হবে। কারণ, প্রকৃতি থেকে আমরা যে ঔষধ ও পথ্য পেয়ে থাকি সেগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন মাঠে ঘাটে ও শহরের বিভিন্ন স্থানে জন্ম নেওয়া সজিনা গাছের পাতা থেকেও তৈরি হয় গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ। তাই কোন গাছকেই অসামান্য হিসেবে মনে করে সেটিকে বিনষ্ট করা মানে দেশের একটি সম্পদ নষ্ট করা। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইউনানী কলেজ থাকলেও বিভাগীয় শহর ও শিক্ষানগরীতে এই ধরনের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠাননা থাকায় এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই শহরেও একটি হারবাল-ইউনানী কলেজ প্রতিষ্ঠা করে এই সেক্টরের চিকিৎসক সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব। বক্তারা আরো বলেন, যোগ্য ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হাকীম-কবিরাজ তৈরি করতে পারলে ঔষধ তৈরির উপাদান বিদেশ থেকে আনার জন্য অর্থ ব্যয় হ্রাস পাবে। অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হারবাল-ইউনানী ঔষধের প্রতি সাধারণ মানুষের চাহিদা ও আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) ওষুধের পণ্যের গুণমান, কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কারণে ইতোমধ্যেই পাঁচটি হারবাল-ইউনানী ঔষধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারণ করেছে। এরমধ্যে অন্যতম হল, রাজশাহীর প্রতিষ্ঠান মুসলিম মেডিহেলথ ইউনানি। উক্ত অনুষ্ঠানে, চিকিৎসক (হাকীম-কবিরাজ) কর্তৃক প্রদেয় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা সহ ঔষধের গুণগত মান বৃদ্ধির উপর জোড় দেয়া হয়। আরো বেশি মানসম্পন্ন ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক তৈরিতে রাজশাহী শহরে একটি ইউনানী কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে মাসুম সরকার বলেন, সকলের সহোযোগিতা থাকলে এখানে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কর্মশালা শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হাকিম ও চিকিৎসকদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।