চাঁপাই নবাবগঞ্জের কৃষি জমিতে সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর বেগুনি ধান

Purple rice is full of beauty and nutrients
আবুল কালাম আজাদ(রাজশাহী ব্যুরো চীফ) ২৪ এপ্রিল ২০২৫ ০৩:৪০ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
আবুল কালাম আজাদ(রাজশাহী ব্যুরো চীফ) ২৪ এপ্রিল ২০২৫ ০৩:৪০ অপরাহ্ন
চাঁপাই নবাবগঞ্জের কৃষি জমিতে সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর  বেগুনি  ধান
চাঁপাই নবাবগঞ্জের কৃষি জমিতে সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর বেগুনি ধান

চাঁপাই নবাবগঞ্জে নতুন জাতের রঙ্গীন ধান চাষ শুরু হওয়া ধানের নাম পার্পল লিফ রাইস। ধানের গায়ের রং সোনালি ও চালের রংয়ের মিশ্রনে কিছুটা বেগুনি রংয়ের মত। উফশী জাতের এ ধানে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে।

 সবুজ কৃষি মাঠের মধ্যে একখন্ড বেগুনি ধান ধান খেত, পুরো কৃষি  মাঠের সৈন্দর্যকে আরো বাড়ীয়ে দিয়েছে । সবুজের মাজে বেগুনী, য়েন একটা পতাকার মত বতাসে ঢেউ খেলছে । প্রকৃতির এই অপরুপ সৈন্দর্য দেখতে ছুটে যাচ্ছেন সৈন্দর্য পিপাসু মানুষ জন।

ভারত সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো এই বেগুনি রঙ্গের ধান চাষ করে সাড়া ফেলেছেন এলাকার সৌখিন কৃষক মো. রবিউল ইসলাম। এই ধান চাষে এই অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন এই রঙ্গীন ধানের খেত দেখতে  ভিড় করছে অনেকেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এলাকায় এই নতুন জাতের ধান চাষ শুরু হওয়া এ ধানের নাম পার্পল লিফ রাইস। দেশে সর্বপ্রথম এ জাতের ধানের আবাদ শুরু হয়েছিল গাইবান্ধায়। সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এ ধান। ধানের গায়ের রং সোনালি ও চালের রং বেগুনি। উফশী জাতের এ ধানে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকটাই কম হয়। 

রোপণ থেকে ধান পাকতে সময় লাগে প্রায় তিন মাসের (১৫০-১৫৫ দিন) মত। অন্য জাতের ধানের চেয়ে এ ধানের গোছায় কুশির পরিমাণ বেশি থাকায় একরপ্রতি ফলনও বেশ ভালো। নতুন এ জাতটির একর প্রতি ফলন ৫৫ থেকে ৬০ মণ হয়ে থাকে। অন্য সব ধানের তুলনায় এ ধান মোটা। তবে পুষ্টিগুণ অনেক। এ চালের ভাত খেতেও সুস্বাদু।

বেগুনি রঙের ধান খেত দেখতে আসা মো. আব্দুল করিম নামে একজন বলেন, নাচোল থেকে যাবার পথে ধানটি দেখে্ আমরা এখানে নেমেগেলাম। ধান গাছ ও ফুটন্ত ধান দেখে খুব ভালো লাগছে।এটা যেন সৃস্টিকর্তার অপরুপ সৃস্টি।এছাড়া এ অঞ্চলে নতুন জাতের ধান। আসলে আমরা কৃষক মানুষ তাই কৃষিকাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকি। এই ধানটি দেখে নিজের মধ্যে আগ্রহ জাগলো যে আমারোও এই ধানটি চাষ করার ইচ্ছা এবং এই নতুন জাতের ধান দেখে আমার অনুপ্রেরণা হলো। আমি আগামীতে এই ধান চাষির সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ধানটি চাষ করার চেষ্টা করবো।

স্থানীয় কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন,  রবিউল আমার প্রতিবেশি। সে এই ধান চাষ করেছে। এই ধান দেখে আমাকে খুব ভালো লাগছে। এ ধান চাষ করার জন্য আমিও খুব আগ্রহী। সামনের বার আমি এই ধান চাষ করবো।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী গ্রামের কৃষক সামিরুল  জানান, আমি দুই দিন আগে এই নতুন জাতের ধান খেত দেখতে গিয়েছিলাম। ধান দেখে আমাদের খুব ভালো লেগেছে। বেগুনি কালারের গাছ হলেও শিষটা অন্যান্য ধানের মতোই। বেশি যদি ফলন হয় তাহলে আমরা এই কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা নিজেরাই উৎপাদন করবো এবং এলাকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করবো, এই ধানটি রোপণ করার জন্য।

রহনপুর পৌরসভার পিড়াহসন গ্রামের বাসিন্দা ও বেগুনি রঙের ধানচাষী কৃষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, প্রথমে ইউটিউবে ধানটি দেখি এবং দেখার পর ধানটি আমার কাছে ভালো লেগেছে। তারপর ধানটি অনলাইনে অর্ডার দিয়ে ২ কেজি ধান নিয়েছি কেজি প্রতি তিনশত টাকা দরে ছয়শত টাকায়।তারপর বীজতলায় চারা গজিয়ে জমিতে রোপন করেছি।এই ধান দেখতে ভালো রং বেগুনি। চাষাবাদে অন্য ধান থেকেও খরচ কম। এছাড়া ধানটির ফলন ভালো হলে আগামীতে এই ধান চাষ করবো

তিনি আরও বলেন, রাস্তায় যত লোকজনের সঙ্গে দেখা হচ্ছে সবাই ধানটির বিষয়ে অনেক প্রশ্ন করছেন। তারা জানতে চাচ্ছে ধানটি কেমন, আবাদ করতে কেমন খরচ, এর বীজ খোথায় পেলাম ইত্যাদি ইত্যাদি।  অনেকে বীজ চাচ্ছে, তবে যতজন বীজ চাচ্ছে ততজনকে বীজ দিতে পারবো না। তাছাড়া যে হিসেবে খরচ করেছি সে হিসেবে ফলন ভালো পাবো বলে আশা করছি।

গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভা ব্লকে এই নতুন ব্যতিক্রম ধরনের ধান চাষের মনস্থির করেছি। রবিউল ইসলাম নামে একজন কৃষক সেটি চাষ করছেন। তিনি গাইবান্ধা থেকে বীজটি সংগ্রহ করেছেন। এই জাতের নাম দুলালি সুন্দরী বলে আখ্যায়িত করেছেন অনেকে। 

তিনি আরো বলেন,এর মধ্যেই এই জাতের ধানটি নিয়ে কৃষকদের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ধানটির পাতাগুলো বেগুনি কালার তবে ধানটি নরমাল ধানের মতোই হবে। বর্তমানে ধানের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে এটি উচ্চ ফলনশীল জাতের । বিষয়টি আমারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন যে বিজ্ঞানীরা আমরা তাদেরকেও অবহিত করেছি। এছাড়া আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি যদি এই ধানটির ফলন ভালো হয় এবং অন্যান্য পুষ্টি গুণাগুন যদি ঠিক থাকে আর  আবহাওয়ার সাথে উপযোগী হয়, তাহলে আমরা এই জাতটির সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে ভবিষ্যতে কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণের কৃষকদের উৎসাহীগ করবো।