ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ৩৩ ভাষার সুনির্দিষ্ট লিপি নেই, ১৪টিই বিপন্নের মুখে
বাংলাদেশের ৩৩ ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষার মধ্যে ১৪টি বিপন্ন। কন্দ, খাড়িয়া, রেংমিৎচা ও খুমি ভাষা সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট কাজ করছে। সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।দেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ৩৩ ভাষার কোনো সুনির্দিষ্ট লিপি নেই। এর মধ্যে ১৪টিই হারিয়ে যাওয়ার মুখে। তবে কন্দ, খাড়িয়া, রেংমিৎচা, খুমি ভাষা রক্ষায় শুরু হয়েছে গবেষণা। তবে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় বিশ্বমানের গবেষণা করতে পারছে না আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের আশা এ বিষয়ে নতুন সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেবে। বাংলা ছাড়াও ৪১টি ভাষায় কথা বলা মানুষের বসবাস বাংলাদেশে। তবে কথিত এই ভাষার মধ্যে কেবল বাংলা, চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, লাখাইনম, ম্রো, মণিপুরি ও অহমিয়া এই আট ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা আছে।
তবে কন্দ, খাড়িয়া, কোডা, সৌরা, মুণ্ডারি, কোল, মালতো, খুমি, পাংখোয়া, রেংমিৎচা, চাক, খিয়াং, লুসাই ও লালেং এই ১৪টি ভাষা বিপন্নের তালিকায়। এর মধ্যে কন্দ, খাড়িয়া, রেংমিৎচা, খুমি এই চার ভাষা রক্ষায় কাজ করছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এআই বা চ্যাটজিপিটিকে ভাষা সংরক্ষণ বা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ব্যবহারের চেষ্টা করছি আমরা। মাত্র আটটি ভাষার লিপি আছে, বাকি যে ভাষাগুলোর লিপি নেই সেগুলো তৈরি করতে হবে। সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এ উদ্যোগ নিচ্ছে বা অনেক ক্ষেত্রে নিয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকেও সে কাজটি করব। এর জন্য আমাদের একটি পরিকল্পনা লাগবে। এটি যেহেতু অনেক বড় একটি কাজ, রাষ্ট্রীয়ভাবে এর জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান আরও বলেন, দেশের প্রচলিত ৩৩ ভাষার কোনো লিপি নেই। শুধু বেঁচে আছে স্থানীয় জনজাতির মুখে মুখে। তাই এই ভাষা রক্ষায় দরকার বিশেষ পরিকল্পনা। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্ধ পেলে লিপিহীন ভাষা রক্ষায় কাজ শুরু করা সম্ভব।এই বছর প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ করছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। তবে একটি মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠার যে প্রত্যাশা ছিল তা আজও পূরণ হয়নি বলে সমালোচনা করেন ভাষা গবেষকেরা।