২৩ জাতের আঙুর চাষ করেছেন কলেজছাত্র, লক্ষাধিক টাকা বিক্রির আশা
২৩ জাতের আঙুর চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কলেজছাত্র শাহরিয়ার পারভেজ। বছর দুই আগে পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে শতাধিক আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি। সে সময় অনেকে তাকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেও গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ধরতে দেখে এখন সবাই তার কাছে আসছেন চারা কিনতে এবং চাষের পরামর্শ নিতে।
ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার পারভেজ পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। বাবা প্রবাসী হওয়ায় পৈতৃক জমিতে নিয়মিত কাজ করতে হতো তাকে। একদিন ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে আগ্রহী হয়ে ওঠেন পারভেজ। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের যুগীপাড়া গ্রামে পৈতৃক ২০ শতক জমিতে শুরু করেন আঙুর চাষ।
প্রথম বছর ফলন কম হলেও এ বছর ফলন হয়েছে বেশ ভালো। সব খরচ বাদ দিয়েও প্রায় লক্ষাধিক টাকার আঙুর বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন শাহরিয়ার। তার বাগানে রয়েছে ২৩ জাতের আঙুর, যার মধ্যে বাংলাদেশে একেবারে নতুন কিছু জাতও আছে। কয়েকটি জাতের চারা সংগ্রহ করা হয়েছে ভারত থেকে। প্রতিদিনই তার বাগান দেখতে ভিড় জমান শত শত মানুষ। গাছ থেকে সরাসরি আঙুর পেড়ে তার স্বাদ উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।
শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, দুই বছর আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও ভারত থেকে ২৩ জাতের চারা সংগ্রহ করে বিশ শতক জমিতে শতাধিক চারা লাগাই। গত বছর ফলন কম ছিল, তবে এ বছর প্রচুর ফলন হয়েছে। আশা করছি আগামী বছর থেকে আরও বাড়বে। এ বছর সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকার আঙুর বিক্রি করা যাবে।
মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ বিশ্বাস বলেন, যুগীপাড়ার কলেজছাত্র পারভেজের বাগান দেখতে গিয়ে থোকায় থোকায় আঙুর দেখলাম। ফলগুলো খুবই সুস্বাদু। সরকারিভাবে পাশে দাঁড়াতে পারলে এ চাষ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গত কয়েক বছর ধরে আঙুর চাষ হচ্ছে এবং ফলের মান ভালো। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একবার আঙুরগাছ লাগাতে পারলে ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব।