পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের টাকা নিয়ে ছলচাতুরি, ক্ষুব্ধ তামিম
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্বের পর বেশ কয়েকটি বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন তামিম ইকবাল। মূলত বাংলাদেশের খেলা দেখতে আসা দর্শকদের সুবিধা দিতে কাজ শুরু করেন তিনি। গত শনিবার গ্যালারিতেও যান সাবেক ওপেনার। পরে দর্শকদের জন্য বাথরুম অপরিষ্কার থাকায় ক্ষুব্ধ হন। সেখানেই জানতে পারেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাদের প্রাপ্য বেতন পাচ্ছেন না।
আজ (সোমবার) ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তামিম বলেন, ‘আমি নিজেই অবাক হয়েছি। গ্যালারিতে গিয়ে একজন বিদেশি দর্শক আমাকে বললেন, যদি ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়। ২০০৭ সালে স্টেডিয়াম হওয়ার পর থেকে বাথরুমে কোনো সংস্কার হয়নি—এটা ঠিক না।’
সেখানে কর্মরত এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কথাও তুলে ধরে তিনি বললেন, “‘আমরা প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে পাই।’- তাদের এই কথা আমাকে নাড়া দেয়। পরে জানলাম ৬৫০ টাকা দেওয়া হয়, কিন্তু তারা ৩০০ টাকা পাচ্ছে কেন? জেনে যা শুনলাম, তা খুবই চমকপ্রদ। একটা কোম্পানি টেন্ডার পায়, কিন্তু বিসিবির লোকজন দিয়েই কাজ করানো হয়। কোম্পানি টাকা নিয়ে আবার অন্য একজনের মাধ্যমে কর্মীদের দেয়, আর মাঝখানে টাকা রেখে দেয়।"
তামিম আরও বলেন, ‘আমি বলেছি—আপনাদের ৬৫০ টাকা দেওয়া হয়, আপনি লাভ করবেন, খরচ থাকবে, ঠিক আছে। কিন্তু এই মহিলারা অন্তত ৫০০ টাকা পেতে পারে। মাঝখানে কোনো কাজ না করে ২০০ টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অর্থহীন।’
এ বিষয়ে তিনি কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান, ‘আজ থেকে আপনারা নিজেদের লোক দেবেন। প্রত্যেক কর্মীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে, সরাসরি সেখানে টাকা যাবে। প্রমাণসহ ফিন্যান্সে জমা দিলে তবেই বিল ছাড়ব। না হলে কন্ট্রাক্ট বাতিল করে ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে।’
ওভারটাইম নিয়েও অনিয়মের কথা তুলে ধরেন তামিম, ‘কেউ ২৫-৩০ ঘণ্টা ওভারটাইম পাচ্ছে, আবার কেউ ৯০ ঘণ্টা। বুঝলাম এখানে সমস্যা আছে। যাদের সাথে সমঝোতা হয়েছে, তাদের ওভারটাইম বেশি দেখানো হচ্ছে, পরে সেই টাকা থেকে অংশ নেওয়া হচ্ছে।’
বোর্ড প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে পরে বলেন, ‘যারা ৭-১০ হাজার টাকায় পরিবার চালায়, তাদের থেকে ৫০০ টাকা নেওয়াও বড় অপরাধ। এই বিষয়ে আমি কোনো ছাড় দেবো না, এক শতাংশও না। আপনারাও (সাংবাদিকরা) এগুলো তুলে ধরবেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে দুর্নীতি করতে না পারে। আমি নিশ্চিত করতে চাই—কোনো গরিব মানুষের ক্ষতি যেন না হয়।