বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ধুম বাম্পার ফলন হলেও দাম নিয়ে চিন্তিত কৃষক

Boro rice
মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী(রাজশাহী): ০৫ মে ২০২৬ ০৩:৪৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী(রাজশাহী): ০৫ মে ২০২৬ ০৩:৪৩ অপরাহ্ন
বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো ধান কাটার ধুম বাম্পার ফলন হলেও দাম নিয়ে চিন্তিত কৃষক
রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের মহোৎসব চলছে।

তপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের মহোৎসব চলছে। দিগন্তজোড়া সোনালী মাঠের ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। প্রতিকূল আবহাওয়া আর নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এবার এ অঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে রেকর্ড ফলনেও কৃষকদের মনে পুরোপুরি আনন্দ নেই; শ্রমিক সংকট আর বাজারদর নিয়ে এক ধরণের অজানা শঙ্কা কাজ করছে তাদের মধ্যে।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৪ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। যা থেকে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ৫৬২ মেট্রিক টন চাল। গত বছরের তুলনায় এবার চাষের জমির পরিমাণ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। এবার ব্রিধান-৮৮,৮৯, ব্রিধান-৯২, ব্রিধান-১০০, ১০২, ১০৪ ও বিনাধান-২৫ সহ উচ্চ ফলনশীল ও আধুনিক জাতের ধান চাষই মূলত এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় উপজেলার বিল চড়াইসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উন্নয়ন সহায়তার আওতায় ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ বা ধান কাটার যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। যন্ত্রগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে তেলের ব্যবস্থা করায় এখন পুরোদমে ধান মাড়াই চলছে। এতে সময় ও খরচ—দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। মাঠে কর্মরত গোদাগাড়ী উপজেলার কেশবপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "এবারের মতো ফলন গত কয়েক বছরে দেখিনি। ব্রিধান-৮৮ আর ব্রিধান-৯২ লাগিয়েছিলাম, বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ২৬ মণ পর্যন্ত ফলন পাচ্ছি। কিন্তু দুশ্চিন্তা হচ্ছে ধান কাটা নিয়ে। এলাকায় কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাইরের জেলা থেকেও শ্রমিক কম আসছে। তার ওপর বাজারে ধানের দাম যদি কমে যায়,লোকসান গুনতে হবে।

একই আশঙ্কার কথা জানালেন সরমংলা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, "ফলন তো ভালো হয়েছে, কিন্তু এক বিঘা জমির ধান কাটা থেকে মাড়াই পর্যন্ত খরচ মেটাতেই আমরা হিমশিম খাচ্ছি। কৃষি বিভাগের হারভেস্টর মেশিনগুলো আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। মেশিনে ধান কাটলে খরচ অর্ধেক হয়ে যায়। তবে সব জমি একবারে পেকে যাওয়ায় মেশিনের সিরিয়াল পেতেও দেরি হচ্ছে। আবহাওয়া কখন বিগড়ে যায় সেই ভয়ে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে চাইছি।"কৃষি বিভাগ বলছে, শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় তারা যান্ত্রিকীকরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, "প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এ বছর বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি ও কৃষকের পরিশ্রমে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে ব্রিধান-৮৮, ১০০ এবং ব্রিধান-১০২ জাতগুলো এ অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী প্রমাণিত হয়েছে। আমরা কৃষকদের শুধু পরামর্শই দিচ্ছি না, বরং শ্রমিক সংকট কাটাতে সরকারি ভর্তুকিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টর বা ধান কাটার যন্ত্র সরবরাহে সহায়তা করছি। এরই মধ্যে উপজেলার বিল চড়াই কম্বাইন্ড হারভেস্টর বা ধান কাটার যন্ত্র সরবরাবাহ জরুরী তেলের ব্যবস্থা করে পুরো দমে ধান মাড়াই চলছে।

এতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।

আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা সময়মতো ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করে ঘরে ফিরতে পারবেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের পাশাপাশি কৃষকদের দ্রুত ধান মাড়াই ও সংরক্ষণের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখন কৃষকদের একমাত্র প্রত্যাশা সরকার যেন সরাসরি মাঠ পর্যায় থেকে ধান সংগ্রহ করে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখে, যাতে তারা তাদের হাড়ভাঙা খাটুনির সঠিক মূল্য পান।