আরডিএ কার্যালয়ে টেন্ডার বাক্স ছিনতাই ,অসহায়ের মত দাঁড়ীয়ে দেখলো পুলিশ
রাজশাহীতে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের উপস্থিতিতেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার( ৫ মে)সকালে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী জোরপূর্বক টেন্ডার বাক্স নিয়ে গিয়ে এর ভেতরের দরপত্র বের করে দেখেন। পরে তারা বাক্সটি আবার ফিরিয়ে দেন। ঘটনাটি ঘিরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আরডিএ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন পুরনো ও অচল মালামাল বিক্রির লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব মালামালের মধ্যে ছিল কয়েকটি শৌচাগারের পুরনো দুটি বিলবোর্ড, আরডিএ পার্কের ছোট-বড় ২৭টি গাছ, ঢাকা লিঁয়াজোঁ অফিসের পাঁচটি সোলার প্যানেল, ১৪টি ব্যাটারি এবং একটি লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ আরও কিছু উপকরণ।
গত ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয় এবং মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ছিল জমা দেওয়ার শেষ সময়। শেষ দিনে টেন্ডার বাক্সের নিরাপত্তায় পুলিশের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সকালে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী দরপত্র জমা দিতে এসে আপত্তি তোলেন। তাদের দাবি ছিল, আগেই কিছু দরপত্র বাক্সে জমা পড়ে গেছে, যা বাতিল করতে হবে। তাদের বক্তব্য ছিল, শুধুমাত্র এ দিনের জমা দেওয়া দরপত্রই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত। আরডিএ কর্মকর্তারা বিষয়টি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলেও তারা তা মানেননি।
একপর্যায়ে ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ধলু পুলিশের উপস্থিতিতেই টেন্ডার বাক্সটি তুলে নিয়ে কার্যালয়ের করিডোরে চলে যান। সেখানে বাক্স খুলে আগের জমা দেওয়া দরপত্রগুলো বের করা হয়। পরে বাক্সটি আবার পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, টেন্ডার বাক্স নেওয়ার পুরো সময়জুড়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত কোনো বাধা দেননি। ওই সময় সেখানে ওয়ার্ড যুবদলের নেতা শরিফ, সাগর এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুনসহ আরও কয়েকজনকে দেখা যায়।
পরবর্তীতে বাক্সটি ফেরত পাওয়ার পর দুপুর আড়াইটার দিকে তা খোলা হয়। তখন চারটি গ্রুপের জন্য মোট নয়টি দরপত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি গ্রুপে পাঁচটি এবং বাকি তিনটি গ্রুপে চারটি করে দরপত্র ছিল। প্রায় আড়াই লাখ টাকার এসব মালামাল ক্রয়ের জন্য প্রায় ৪৫০ জন শিডিউল সংগ্রহ করেছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, এই ঘটনায় যুবদলের কেউ জড়িত কিনা তা তার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ২৭ এপ্রিল থেকে নিয়ম মেনে দরপত্র গ্রহণ করা হচ্ছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বাক্স খুলে আগের দরপত্রগুলো বের করে দেখেছেন। সেগুলো পুনরায় যথাযথভাবে বাক্সে রাখা হয়েছে কিনা তা তারা জানেন না। তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, বাক্স ছিনতাইয়ের সময় কাউকে আটক না করার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভুল বোঝাবুঝির কারণে বাক্সটি নিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে তা ফেরত দিয়েছেন। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আরডিএ কর্তৃপক্ষ চাইলে মামলা করতে পারে। তারা মামলা না করলে পুলিশই আইনি পদক্ষেপ নেবে।