বদলগাছীতে সেই ‘ধানের রাস্তা’ এবার এলাকাবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে সংস্কার
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ডাকবাংলো মোড় সংলগ্ন জনগুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকা এই সড়ক সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না পেয়ে এবার নিজেরাই মাঠে নেমেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। স্বেচ্ছাশ্রম ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তারা শুরু করেছেন সড়ক সংস্কারের কাজ।
উল্লেখ্য, গত বছর বর্ষা মৌসুমে সড়কটিতে জলাবদ্ধতার প্রতিবাদে স্থানীয়রা সেখানে আমন ধানের চারা রোপণ করে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করেছিলেন। পরে ধান পেকে গেলে সেখানে আয়োজন করা হয় ‘পিঠা উৎসব’-এর। মূলত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এমন অভিনব প্রতিবাদের আশ্রয় নিয়েছিলেন এলাকাবাসী। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কের অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় এবার প্রতিবাদের বদলে নিজেরাই সংস্কার কাজে অংশ নিয়েছেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় ব্যবসায়ী, তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলবদ্ধভাবে সড়ক সংস্কারের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ট্রাক্টরে করে আনা হচ্ছে ইটের রাবিশ ও আদলি ইট। কেউ হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙছেন, কেউ আবার কোদাল দিয়ে নিচু স্থান ভরাট করছেন। যে স্থানে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে থাকত, সেখানে এখন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং শুকনা মৌসুমে ধুলাবালির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারী ও যানবাহন চালকদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমন বলেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এলাকার সচেতন মানুষ একত্রিত হয়ে কাজ শুরু করেছে। এজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।
লেখক নয়ন হোসেন বলেন,গত বছর ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ করেছি, তাতেও কাজ হয়নি। এবার আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে নিচু জায়গাগুলোতে ইটের রাবিশ ফেলে রাস্তা মেরামতের কাজ করছি। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নিক।
এলাকাবাসীর এই উদ্যোগে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সরাসরি কাজে অংশ নিয়েছেন লেখক নয়ন হোসেন, সাংবাদিক সৈকত সোবহান, আবু রায়হান গিটার, মিঠু হাসান ও রায়হানসহ অনেকে। এছাড়া স্থানীয় ইটভাটা মালিক দেলোয়ার হোসেন রাবিশ এবং চঞ্চল হোসেন আদলি ইট দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। পুরো কাজটি তদারকি ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন শ্রমিক নেতা রুবেল।
স্থানীয়দের দাবি, এই স্বেচ্ছাশ্রম কেবল সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নয়; বরং এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি একটি নীরব বার্তা—যাতে ভবিষ্যতে স্থায়ী ও টেকসই সড়ক সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।