টানা প্রায় ২০ ঘণ্টায় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

Record 296 millimeters of rainfall in nearly 20 consecutive hours
অনলাইন ডেস্ক ০৯ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫০ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ০৯ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫০ অপরাহ্ন
টানা প্রায় ২০ ঘণ্টায় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড
--সংগৃহীত ছবি

টানা প্রায় ২০ ঘণ্টার বৃষ্টিতে নওগাঁয় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, বাজার ও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী। একই সঙ্গে আত্রাই নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি মৌসুমে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এর আগে ২৩ এপ্রিল এক দিনে ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পানিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নওগাঁ প্রধান নদী আত্রাইয়ের পানি বেড়েছে ১ দশমিক ৮৭ মিটার পর্যন্ত। পানি বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে নওগাঁর নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নালা-ড্রেনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর বর্ষায় একই দুর্ভোগ তৈরি হয়। ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই নওগাঁ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

জলাবদ্ধতার কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি মাড়িয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে শহরের সিও অফিস, নওগাঁ সরকারি কলেজ এলাকা, গোস্তহাটির মোড়, সুপারিপট্টি, চুড়িপট্টি, বাটার মোড়, ডাবপট্টি, পুরাতন হাসপাতাল সড়ক, ব্রিজের মোড়, কাঁচাবাজার, বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, কাজীপাড়া ও সুলতানপুরসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৮০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ৩ থেকে ৫ টন পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য। এসব বর্জ্যের একটি অংশ নির্ধারিত ভাগাড়ে নেওয়া হলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গৃহস্থালির বর্জ্য নালা-খালেই ফেলা হয়। এতে শহরের খাল ও ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

শহরের সিও অফিস এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে।

সরিষাহাটির মোড়ের ব্যবসায়ী শাহীন আহম্মেদ বলেন, ড্রেনে জমে থাকা পলিথিন ও বর্জ্য নিয়মিত অপসারণ না করায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

নওগাঁ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পৌর এলাকায় প্রয়োজনীয় ড্রেনের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি ড্রেনে বর্জ্য ফেলা এবং নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। জনবল সংকটও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।