চট্টগ্রামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮
দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদানকারী একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও ডিবি।
গ্রেপ্তার আটজন হলেন, মোহাম্মদ ইউনুস, ইমরান হোসেন, আকবর হোসেন, মোহাম্মদ সুমন, মোহাম্মদ মনির, গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ নয়ন ও আবদুল নাহিদ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা তিনটার দিকে দামপাড়া নগর পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর ও টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এ ঘটনার মূলহোতা সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ‘ডিজিটাল ডট নেট’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার রাতেই চকবাজার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের আসামি করে মামলা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল এবং বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেন। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা না হলে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চট্টগ্রাম বিভাগে সেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সদস্যরা এক সংবাদ সম্মেলনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই দাবিতে তারা মানববন্ধন করেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ডিডিএন এর পরিচালক রিদুয়ানুল কবির বলেন, ঘটনার মূলহোতা শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
জানা গেছে, গত ১১ জুলাই সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ডিডিএন এর স্বত্বাধিকারী আদিল আল মামুনকে ফোন করে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে দশ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় ব্যবসা ছেড়ে দিতে বলে। ডিডিএন মালিক তার পরিচয় জানতে চাইলে ইমন পরিচয় দানকারী পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে তার পরিচয় জেনে নিতে বলে। এসময় ওই ব্যক্তি স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাড়িতে চাঁদার জন্য গুলি করার ঘটনা উল্লেখ করে।
প্রসঙ্গত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন দুবাইয়ে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে পরিচিত। ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় তার বাড়ি। তার বিরূদ্ধে ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসী সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তার বিরূদ্ধে।
তবে মঙ্গলবার রাত থেকে ডেভিড ইমনের একটি অডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমারা লাঠি নিয়ে হামলা করি না। দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ছড়ানো অডিও বার্তাটি আমার নয়। এটি এআই দিয়ে তৈরি।’