মেহেরপুরে মাটির নিচে ১০ ‘মাইনসদৃশ’ বস্তু, গায়ে পাকিস্তানের নাম

10 'mine-like' objects underground
বিশেষ প্রতিনিধি :- ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০৫:০৭ অপরাহ্ন সারা বাংলা
বিশেষ প্রতিনিধি :- ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০৫:০৭ অপরাহ্ন
মেহেরপুরে মাটির নিচে ১০ ‘মাইনসদৃশ’ বস্তু, গায়ে পাকিস্তানের নাম
মেহেরপুরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১০টি ‘মাইনসদৃশ’ ধাতব বস্তু ও পাঁচটি খালি বাক্স উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মেহেরপুরের গাংনীতে একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১০টি ‘মাইনসদৃশ’ ধাতব বস্তু ও পাঁচটি খালি বাক্স উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া একটি বস্তুর গায়ে ‘পাকিস্তান’ এবং ‘এমপিআই ১৯৬৭ মাইন এ/পার্স এনডি পি২ এমকে২’ লেখা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এগুলো সক্রিয় ল্যান্ডমাইন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের কালু মালিথার পরিত্যক্ত জমি থেকে এসব বস্তু উদ্ধার করা হয়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকায় না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।


গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস জানান, কৃষিকাজের সময় মাটির নিচে কয়েকটি ধাতব বস্তু দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা কাঁদো মালিথা। পরে মাটি খুঁড়ে একে একে ১০টি মাইনসদৃশ বস্তু ও পাঁচটি খালি বাক্সের সন্ধান পাওয়া যায়।


বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।  গাংনী থানা-পুলিশ সেখানে গিয়ে এলাকাটি জনবনিরাপত্তার জন্য ঘিরে রাখে।


বামুন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো সক্রিয় ল্যান্ডমাইন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এগুলো পুরোনো কিংবা নিষ্ক্রিয় কোনো বিস্ফোরকও হতে পারে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে রাখা হয়েছে।’

‘বস্তুগুলো পরীক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনীর বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এগুলো ল্যান্ডমাইন কি না এবং এগুলো সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে কি না,বা ’১৯৭১-এর যুদ্ধে পুঁতে রাখা বিস্ফোরক কি না, পরীক্ষা করবে সেনাবাহিনীর বোমা ডিসপোজাল ইউনিট


স্থানীয় বিএনপি নেতা মনজুর আলম টকির দাবি, বেতবাড়িয়া গ্রামের কাছেই ভারতীয় সীমান্ত। ১৯৭১ সালে ওই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। তাঁর ধারণা, পাকিস্তানি সেনারা সেসময় অথবা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় এসব বিস্ফোরক মাটির নিচে পুঁতে রেখে যেতে পারে।


তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া একটি বস্তুর গায়ে ‘পাকিস্তান’ লেখা রয়েছে। সেখানে ‘এমপিআই ১৯৬৭ মাইন এ/পার্স এনডি পি২ এমকে২’ লেখা দেখা গেছে।


তবে উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর প্রকৃত পরিচয়, এগুলো কোন সময়ের এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের পরীক্ষার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।