তানোরে তথ্য সংগ্রহে বাধার অভিযোগ, সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে ছবি-ভিডিও মুছে দেওয়ার দাবি

Allegations of obstruction of information collection in Tanore
ছোটন সরদার ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০৬:২৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
ছোটন সরদার ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০৬:২৩ অপরাহ্ন
তানোরে তথ্য সংগ্রহে বাধার অভিযোগ, সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে ছবি-ভিডিও মুছে দেওয়ার দাবি
কালীগঞ্জ মেডিকেল মোড়সংলগ্ন আদিবাসী পাড়ায় মাদককে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধা, হেনস্তা ও প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ করেছেন বিজয় বাংলা নিউজের রিপোর্টার ছোটন সরদার।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কালীগঞ্জ মেডিকেল মোড়সংলগ্ন আদিবাসী পাড়ায় মাদককে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধা, হেনস্তা ও প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ করেছেন বিজয় বাংলা নিউজের রিপোর্টার ছোটন সরদার। এ সময় তাঁর মুঠোফোন জোরপূর্বক নিয়ে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ অন্যদের ফোনে স্থানান্তর এবং পরে সংগৃহীত কিছু ফুটেজ মুছে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।


সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কালীগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক ছোটন সরদার।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর একটার দিকে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড় কালীগঞ্জ মেডিকেল মোড়সংলগ্ন একটি আদিবাসী পাড়ায় মাদককে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা সম্পর্কে ছোটন সরদারকে তথ্য দেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বেলা তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ শুরু করেন।



এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সাংবাদিকতার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা করেন।  পরে তিনি কর্মরত সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র দেখালেও তাঁকে তথ্য সংগ্রহ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।


অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে উদ্দেশ করে বলা হয়, ‘আপনি নিউজ করতে আসছেন, কালীগঞ্জ বাজারের সবার সঙ্গে কথা বলে আমাদের কেন নিয়ে যাননি, আপনি একা এসে দুই-তিন ঘণ্টা কী করছিলেন? একতরফা নিউজ করে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি খারাপ করতেন।এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের ‘মাদকবিরোধী কমিটি’র সদস্য দাবি করেন এবং ওই এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করতে হলে তাঁদের জানিয়ে ও সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে বলে চাপ দেন।


একপর্যায়ে জোরপূর্বক তাঁর মুঠোফোন নিয়ে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ অন্যদের ফোনে স্থানান্তর করা হয় এবং সংগৃহীত  ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ছোটন সরদার।


এ ছাড়া তাঁকে দিয়ে একটি ভিডিওতে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে বাধ্য করা হয় যে, সবার সঙ্গে কথা না বলে এবং মাদকবিরোধী কমিটিকে না জানিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে আসা তাঁর ভুল হয়েছে এবং এ জন্য তিনি ক্ষমা চাচ্ছেন।


 অভিযোগ রয়েছে ভয়ভীতি, হুমকি ও শারীরিকভাবে হেনস্তার পরিস্থিতি তৈরি করে তাঁকে এ ধরনের বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়।


অভিযোগে হেনস্তায় জড়িতরা হলেন, সোহেল (৩৬), পিতা মৃত আব্দুল আলী; সজিব (৩৫), পিতা জালাল; ফিরোজ (৩৮), পিতা মৃত হাকিম; জাহিদ (৩৫), পিতা মাসুদ; বাবু (৩৪), পিতা কালু; বাবু (২) (৫৫); ইসমাইল (২২); রনি (২৭); মিঠনসহ আরও অনেকে। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে তিন শতাধিক লোকের উপস্থিতি ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিযোগে বিকেল প্রায় পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত তাঁকে ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা তাঁর সাংবাদিকতার পরিচয় ও তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তাঁকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়।


কোনো ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। সংবাদ একতরফা হয়েছে কি না, তা যাচাই ও সম্পাদনার বিষয় সংবাদমাধ্যমের। কিন্তু তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া, সাংবাদিকের কাছ থেকে মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া, সংগৃহীত ছবি-ভিডিও মুছে দেওয়া এবং জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিতে বাধ্য করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।


তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।