সাংবাদিক ছোটন সরদারকে হেনস্তার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন
রাজশাহীর তানোরে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক ছোটন সরদারকে বাধা, হেনস্তা, প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং সংগৃহীত ছবি-ভিডিও স্থানান্তর ও কিছু ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ‘আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি’ সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, নারী অধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া, শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং সংগৃহীত ছবি-ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।
বক্তারা বলেন, গত ১৭ আগস্ট তানোর উপজেলার কালীগঞ্জ মেডিকেল মোড়সংলগ্ন একটি আদিবাসী পাড়ায় মাদককে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে যান বিজয় বাংলা নিউজের রিপোর্টার ছোটন সরদার। সেখানে তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সাংবাদিকতার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন।
পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাঁকে তথ্য সংগ্রহ থেকে বিরত থাকতে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও অন্যদের মুঠোফোনে স্থানান্তর করা হয় এবং সংগৃহীত কিছু ফুটেজ মুছে দেওয়া হয় বলে বক্তারা জানান।
বক্তারা আরও বলেন, একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও হুমকির মধ্যে ছোটন সরদারকে দিয়ে একটি ভিডিওতে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিতে এবং ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। সেখানে সবার সঙ্গে কথা না বলে এবং স্থানীয় ‘মাদকবিরোধী কমিটিকে’ না জানিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে আসা তাঁর ভুল হয়েছে এমন বক্তব্য দিতে তাঁকে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা বলেন, কোনো ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। সংবাদ একতরফা হয়েছে কি না, তা যাচাই, সম্পাদনা ও প্রকাশের বিষয় সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের। কিন্তু তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া, সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া, ছবি-ভিডিও মুছে দেওয়া কিংবা জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিতে বাধ্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁরা আরও বলেন, সাংবাদিক ছোটন সরদার দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পাশাপাশি অধিকার ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। নারী ক্ষমতায়ন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, সাংবাদিক সুরক্ষা, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তিনি কাজ করছেন।
বক্তারা জানান, ‘আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি’ প্রকল্পে ছোটন সরদার রাজশাহী বিভাগীয় কোয়ালিশন টিমের অন্যতম সদস্য। একই সঙ্গে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
মানববন্ধন থেকে তানোরের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক যাতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হেনস্তা, হয়রানি বা হামলার শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ‘আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি’ সংগঠনের মেন্টর প্রমিলা কিস্কু। এ সময় বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, দৈনিক জনকণ্ঠের ফটোসাংবাদিক সেলিম জাহাঙ্গীর, রাজশাহী কোয়ালিশন টিমের সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুন্নাহার মুক্তি, রাজকুমার শাও, সম্রাট রায়হান, সুইটি ইয়াসমিন ও জুলফিকার আলী হায়দারসহ অন্যরা।