সার সংকটে দিশেহারা কৃষক,পাচ্ছেনা বাড়তি টাকা দিয়েও

Farmers in dire straits due to fertilizer crisis
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী: ২২ আগস্ট ২০২৬ ০৪:১০ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী: ২২ আগস্ট ২০২৬ ০৪:১০ অপরাহ্ন
সার সংকটে দিশেহারা কৃষক,পাচ্ছেনা  বাড়তি টাকা দিয়েও
রাজশাহীতে তীব্র সার সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

চলতি আমন মৌসুমে ধানের চারা রোপণ ও জমি পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাজশাহীতে তীব্র সার সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এক ডিলারের দোকান থেকে অন্য ডিলারের কাছে ছুটেও প্রয়োজনীয় সার মিলছে না। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে ফিরছেন খালি হাতে। এ সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।


গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নজরুল ইসলামের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সার নেওয়ার জন্য কৃষকদের দীর্ঘ অপেক্ষা। দেওপাড়া গ্রামের কৃষক আলাদীন জানান, টানা দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত সার পাননি তিনি।


কাজীহাটা গ্রামের কৃষক বাবলু ১০ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করছেন। নিজের এলাকায় ইউরিয়া না পেয়ে দেওপাড়ায় এসেও হতাশ হতে হয়েছে তাঁকে। সেখানে মাত্র ২০ কেজি সার বরাদ্দের কথা শুনে খালি হাতেই বাড়ি ফেরেন তিনি।

একই চিত্র দেখা গেছে পবার ভিমের ডাইং ও গোদাগাড়ীর কদমশহর এলাকায়। এসব এলাকার কৃষক হারুন অর রশিদ ও রাশিদুল ইসলাম ডিএপি ও ইউরিয়া সারের তীব্র সংকটের কথা জানিয়েছেন।


চারঘাটের ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আকাশ এন্টারপ্রাইজে টিএসপি সারের জন্য কৃষকদের হুড়োহুড়ি করতে দেখা যায়। দুই বস্তা করে সারের চাহিদার বিপরীতে কৃষকদের মাত্র ১৫ থেকে ২৫ কেজি করে সার দেওয়া হচ্ছে। ডিলারের কর্মচারীরা জানান, ১০ মেট্রিক টন টিএসপির মধ্যে অবশিষ্ট ২৯ বস্তা সার সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার জন্যই এভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।


তবে কৃষকদের অভিযোগ, সার সংকটকে পুঁজি করে বাজারে চলছে দামের অরাজকতা। গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ীহাটে সরকারি নির্ধারিত ১ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের ৫০ কেজির এক বস্তা ডিএপি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়। আর ১ হাজার ৩৫০ টাকার ইউরিয়া বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়।


এ ছাড়া একটি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কেজিপ্রতি ৩৪ টাকা দরে ডিএপি বিক্রির কথা স্বীকার করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণেও রাজশাহীতে সারের সরবরাহ ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। চলতি আগস্ট মাসে জেলায় ৭ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টন ইউরিয়ার চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ এসেছে ৪ হাজার ৭২৪ টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ২ হাজার ৮৫০ টন।


একইভাবে ২ হাজার ৬৪৭ টন ডিএপির চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ এসেছে ২ হাজার ১৮২ টন। ১ হাজার ৫১১ টন টিএসপির চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৪০ টন। আর ১ হাজার ৭৬০ টন এমওপির চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ এসেছে ১ হাজার ৪৯৬ টন।


চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে প্রায় ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি ১৭ হাজার ৭৭৪ হেক্টরের বেশি পুকুরে মাছ চাষেও সার ব্যবহার হচ্ছে। ফলে কৃষি খাতে বরাদ্দকৃত সারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


সার সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সার ঘাটতির কথা স্বীকার করে বলেন, অসাধু মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।


জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কেউ সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম নিলে প্রমাণ সাপেক্ষে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে পবা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও চারঘাটে অবৈধ মজুদের দায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। জেলার সব উপজেলায় সার বিক্রি ও মজুদের ওপর নজরদারি রয়েছে বলেও জানান তিনি।