রাজশাহীতে পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে দাদন ব্যবসার অভিযোগ, আবেদন দিতে বাধা
রাজশাহীতে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দাদন ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী গৃহিণী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
আবেদন গ্রহণে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তাঁদের আবেদন গ্রহণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদর দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী কয়েকজন গৃহিণীর ভাষ্য, মতিহার থানায় কর্মরত এএসআই মনিরুল ফেরদৌস ও তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীতে দাদন বা সুদের কারবার পরিচালনা করছেন। পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বর্জ্যাপুর গ্রামের সুমি আক্তারসহ প্রায় ২০টি পরিবারের সদস্য তাঁদের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঋণের টাকা পরিশোধের সময় মূল পাওনার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁদের ওপর বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ ঘটনায় আরও কিছু গুরুতর অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে তাঁরা এ বিষয়ে আরএমপি কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় তাঁদের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট)পুনরায় আবেদন জমা দিতে গেলে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান তাঁরা। পরে কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগের তথ্য জানতে তাঁদের সঙ্গে আরএমপি সদর দপ্তরে যান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সদর দপ্তরে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয়। পরে সীমিতসংখ্যক ভুক্তভোগী ও সাংবাদিককে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও কমিশনারের স্টাফ অফিসারের কক্ষের সামনে তাঁদের সঙ্গে কয়েকজন পুলিশ সদস্য অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
একপর্যায়ে কমিশনারের স্টাফ অফিসার সালমা সুলতানা আলম কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং আবেদন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সালমা সুলতানা আলমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পরে আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শোনেন এবং কেন তাঁদের আবেদন আগে গ্রহণ করা হয়নি, তা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কাছে জানতে চান। পরে দ্রুত আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি।
এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের বিষয়টিও পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে বলেওতিনি আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগী সুমি আক্তার বলেন, “আমরা প্রায় দুই মাস ধরে পুলিশ কমিশনারের কাছে দরখাস্ত দেওয়ার চেষ্টা করছি। আজ সাংবাদিকদের নিয়ে গেলে আমাদের সঙ্গে আবারও খারাপ আচরণ করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন একজন পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে আমাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে এএসআই মনিরুল ফেরদৌস ও তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দাদন ব্যবসার অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের দাবি এবং ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগসহ আবেদন গ্রহণে বাধা দেওয়ার বিষয়টি—সবকিছুরই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।