এক বছর পর প্রকাশ

নৈতিক স্খলন-পদ-বানিজ্য ও সংগঠনের পরপন্থী কর্মকাণ্ডে আম্মারের শিবির ‘সাথী’ পদ বাতিল

Ammar's camp 'sathi' position cancelled
আবুল কালাম আজাদ ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৩ পূর্বাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
নৈতিক স্খলন-পদ-বানিজ্য ও সংগঠনের পরপন্থী কর্মকাণ্ডে আম্মারের শিবির ‘সাথী’ পদ বাতিল
নৈতিক স্খলন-পদ-বানিজ্য ও সংগঠনের পরপন্থী কর্মকাণ্ডে আম্মারের শিবির ‘সাথী’ পদ বাতিল

নৈতিক স্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন, সম্পদ তছরুপ ও সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাতিল করা হয়। এর প্রায় এক বছর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।


শিবিরের সাংগঠনিক নথি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের বক্তব্যে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর মেহেদী বলেন, ‘কিছু অনিয়মের অভিযোগের পর ২০২৫ সালে সালাহউদ্দিন আম্মারের সাথী পদ বাতিল করা হয়েছিল।’


শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত ৩১ জুলাই ২০২৬-এর চিঠি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে আম্মারের পদ মুলতবি করা হয়। অভিযোগগুলোর যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেপ্টেম্বরে পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

তাঁর কর্মকাণ্ডে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কায় নেতাকর্মীদের তাঁর অনলাইন ও সরাসরি কর্মকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া না দেখানোরও নির্দেশও দেওয়া হয়।



২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শাখা শিবিরের তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমান রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। 


গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ ফেব্রুয়ারির সভায় বিষয়টি আলোচনা করে তাঁর ‘সাথী’ পদ মুলতবির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে নথিতে বলা হয়েছে।


২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর  রাবি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধ, অসাদাচরণ, পোষ্য কোটা আন্দোলন অর্থ সংগ্রহ, ডিনদের পদত্যাগের দাবি ও অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ , কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংঘর্ষ ও রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ঘটনায় আম্মারের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ওঠে।


২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিনোদপুরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আমবারের নেতৃত্বে এবং সরাসরি উপস্থিত থেকে মাসুদকে গণপিটনি দেওয়া হয়। এতে  মাসুদের মৃত্যু হয়। 



২০২৫ সালে ‘৩৬ জুলাই: মুক্তির উৎসব’ আয়োজনের জন্য প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৭৬ লাখ টাকা সহায়তা চাওয়ার খবর প্রকাশিত হলে, অনুদানের নামে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে। আম্মার তা অস্বীকার করে এটিকে স্পনসরশিপ প্রস্তাব বলেন।

এছাড়া একই বছর ছয় ডিনের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি ও কয়েকটি দপ্তরে তালা দেওয়ার ঘটনাতেও তাঁর নেতৃত্বের অভিযোগ ওঠে।


২০২৬ সালের ২৭ জুলাই রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংঘর্ষের ঘটনায় আম্মারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আদালতে আবেদন করা হলে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে গত ১৫ আগস্ট ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজনেও জবাই করা গরুর প্রতীকী নাম ‘বাকশাল’ রাখাকে কেন্দ্র করে তিনি সমালোচিত হন। তাঁর দাবি, আয়োজনটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং গরুটি একজন ব্যক্তি উপহার দিয়েছিলেন।


গত ২০ সেপ্টেম্বর এক শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ তুলে রাজশাহী রেলস্টেশনে উত্তেজনা, রেললাইন অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও স্টেশন ভবন ও তার আশেপাশের স্থাপনায় ভাংচুর চালায়।  একাধিক সূত্রের দাবি, কর্মসূচিতে আম্মার নেতৃত্ব দেন। ঘটনা তদন্তে রেলওয়ে কমিটি গঠন করেছে; সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।


রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনকে ক্যাম্পাসের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার জন্য আম্মার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। 

সে রাসিক প্রশাসক রিটনের উদ্দেশ্যে বলেন,  আপনি আপনার সিটি কর্পোরেশন নিয়ে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে নজর দিবেন না, এতে ফল ভালো হবে না। 


আম্মার তার ওপর উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে লক্ষ্য করে এসব প্রচার চালাচ্ছেন।এছাড়া তার উপর অভিযোগ কারিদের গাধার সাথে তুলনা করেছেন।