প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত রুয়েটের ৭ শিক্ষার্থী

7 students of RUET
রুয়েট প্রতিনিধি: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫১ অপরাহ্ন সারা বাংলা
রুয়েট প্রতিনিধি: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫১ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত রুয়েটের ৭ শিক্ষার্থী
‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাত শিক্ষার্থী।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) প্রবর্তিত ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাত শিক্ষার্থী। তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে যথাক্রমে তিন, এক ও তিনজন শিক্ষার্থী এ স্বীকৃতির জন্য মনোনীত হয়েছেন।


ইউজিসির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে প্রাপ্ত প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মাধ্যমে তালিকা পুনরায় যাচাই শেষে মোট ৪৬৯ শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা যায়। ইউজিসির ওয়েবসাইটে সম্মাননা সেবা অংশে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে।


চূড়ান্ত তালিকায় রুয়েটের সাতজনের মধ্যে ২০২১ সালের জন্য মনোনীত হন ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষের তিন সাবেক শিক্ষার্থী। তারা হলেন—মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. শাহীনুর আলম, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জাহিদ হাসান এবং তড়িৎ ও তড়িৎকৌশল বিভাগের মো. মায়েনুল ইসলাম।


এছাড়াও ২০২০ সালের জন্য মনোনীত হয়েছেন ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষের স্থাপত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তামান্না সুলতানা স্বর্ণা। ২০১৯ সালের জন্য মনোনীত হয়েছেন ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষের তিন সাবেক শিক্ষার্থী। তারা হলেন—যন্ত্রকৌশল বিভাগের মিফতাহুল মবিন চৌধুরী, পুরকৌশল বিভাগের সুমাইয়া তাবাসসুম এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের মহিউদ্দিন আহমেদ।


উল্লেখ্য পেশাগত জীবনেও রুয়েটের এসব সাবেক শিক্ষার্থী সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলেছেন। তাদের অধিকাংশই বর্তমানে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। মো. শাহীনুর আলম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়েস বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের কৃষি ও জৈব প্রকৌশল বিভাগে পিএইচডি করছেন।


জাহিদ হাসান রুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব প্ল্যানিং অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সে মাস্টার অব সায়েন্স প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন।


এদিকে মিফতাহুল মবিন চৌধুরী রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।


অন্যদিকে মহিউদ্দিন আহমেদ রুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, সুমাইয়া তাবাসসুম পুরকৌশল বিভাগ, মো. মায়েনুল ইসলাম তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ এবং তামান্না সুলতানা স্বর্ণা স্থাপত্য বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।


ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২১—এই তিন বছরে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মোট ৪৬৯ শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে রুয়েটের সাতজন, যা মোট মনোনীতদের প্রায় ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।


তালিকায় দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থী স্থান পেয়েছেন। এই ছয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই রয়েছেন মোট ১৪৩ জন। এছাড়াও দেশের বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ তালিকায় নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন।


পাশপাশি অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ১১, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে আট, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে ছয় এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) থেকে ছয়জন মনোনীত হয়েছেন। সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৩৮ জন শিক্ষার্থী তালিকায় রয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ইউজিসির প্রবর্তিত একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে এ পুরস্কারের জন্য পৃথক সম্মাননা সেবা ও নীতিমালা রয়েছে। ২০২২ সালে ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছিল এবং পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। রুয়েট শিক্ষার্থীদের এ স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষকতায় অবদানেরও একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন।