বাড়ি ও কীটনাশকের দোকানে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ; ক্ষতি প্রায় ৭ লাখ টাকা দাবি

Attacks and vandalism on houses and pesticide shops
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩০ অপরাহ্ন সারা বাংলা
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩০ অপরাহ্ন
বাড়ি ও কীটনাশকের দোকানে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ; ক্ষতি প্রায় ৭ লাখ টাকা দাবি
চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

নওগাঁর বদলগাছীতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক প্রবাসফেরত ব্যবসায়ীর বাড়ি ও কীটনাশকের দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, হামলার পর প্রাণনাশের আশঙ্কায় প্রায় এক মাস ধরে বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারছেন না তিনি।

এ ঘটনায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর নওগাঁর বিজ্ঞ ৫ নম্বর আমলি আদালতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন জাহাঙ্গীর আলম (৪৬)। মামলার নম্বর ৩৯০/২০২৬। মামলার প্রধান আসামি আব্দুল জলিল বিলাসবাড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান কেটু।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন: আব্দুল জলিল (৪৫), রুবেল হোসেন (২৯), ফরিদ (৩০), ফারুক হোসেন (৩৮) ও সাহাদ আলী (২০)। তাঁদের সবার বাড়ি উপজেলার বিলাসবাড়ি ইউনিয়নের কানুপুর গ্রামে।

মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কানুপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ ১৬ বছর প্রবাসে থাকার পর ২০২২ সালে দেশে ফেরেন। পরে নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে কীটনাশকের ব্যবসা শুরু করেন। অভিযোগ, বাড়ি নির্মাণের সময় থেকেই বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং জমিতে কৃষিকাজ ও কীটনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।


এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর আলমের দোকানের এক কর্মচারী মোটরসাইকেলে পণ্য কিনতে গেলে চকনদীকূল বাজার এলাকায় তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। এ সময় মোটরসাইকেলটি আটকে রেখে চাঁদার টাকা আনতে তাঁকে বাড়িতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ।

পরে জাহাঙ্গীরের ছেলে এক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন। এর পরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে হামলা চালান বলে মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা জাহাঙ্গীরকে মারধর করেন এবং তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে ক্যাশবাক্সের চাবি ছিনিয়ে নেন। পরে ক্যাশবাক্স থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দোকানের কীটনাশক ও অন্যান্য মালামাল লুটপাট এবং বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর করা হয়।

আদালতে দাখিল করা এজাহার অনুযায়ী, দোকান থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কীটনাশক, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট এবং অবকাঠামো ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণে রয়েছে—কুইন প্লাসের তিন কার্টন, নীল প্লাসের পাঁচ কার্টন, জেনিলাসের তিন কার্টন, জেনিজেলের পাঁচ কার্টন ও সিলেকশনের এক কার্টন কীটনাশক। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য যথাক্রমে এক লাখ, ৬০ হাজার, ৪০ হাজার, এক লাখ ও ১০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া চারটি জানালা, দোকানের শাটার, তিনটি র‌্যাক বা সেলফ এবং অন্যান্য মালামাল ভাঙচুরের ক্ষতিও ওই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা, আবুল কালাম ও বনি দাবি করেন, তাঁরা জাহাঙ্গীরের বাড়ি ও দোকানে হামলা এবং মালামাল লুটপাটের ঘটনা দেখেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাঙ্গীরকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “হামলার সময় ফোন পেয়ে বদলগাছী থানার এসআই কুদ্দুস ঘটনাস্থলে এসে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। কিন্তু এরপর থেকে আসামিদের ভয়ে বাড়ি ও দোকানে ফিরতে পারছি না। প্রায় এক মাস ধরে অন্যত্র অবস্থান করছি। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিজের জানমালের নিরাপত্তা চাই।”

মামলার পাঁচ নম্বর আসামি সাহাদ আলী হামলার কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন, তাঁর চাচাকে বাড়ির ছাদ থেকে ইট ছুড়ে মারা হয়েছিল। এ কারণে তাঁরা হামলা চালিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে দোকানের মালামাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেন সাহাদ।

মোটরসাইকেল আটকে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, মোটরসাইকেলটি তাঁদের কাছে ছিল এবং পরে একজন পুলিশ সদস্য এসে সেটি নিয়ে যান।

অন্যদিকে, প্রধান অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল তাঁর বিরুদ্ধে আনা চাঁদা দাবি, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।