তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি ইলা মিত্রের স্মরণে নাচোলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক মেলা শুরু
উপমহাদেশের ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি নেত্রী, সাঁওতাল ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রিয় ‘রাণীমা’ কমরেড ইলা মিত্রের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ‘ইলা মিত্র মেলা’।
রবিবার (১১ অক্টোবর) নাচোল উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে 'ইলা মিত্র মেলা জাতীয় কমিটি'র আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার সূচনা হয়। আগামী ১৩ অক্টোবর (বাংলা ২৬–২৮ আশ্বিন) পর্যন্ত প্রতিদিন নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে মেলা পরিচালিত হবে।
মেলার উদ্বোধনী দিনে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত হয়ে শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক ইলা মিত্রের জীবন, আদর্শ ও আপসহীন সংগ্রামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন ইলা মিত্র মেলা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:-
সাজ্জাদ জহির চন্দন, সভাপতি, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটি রাগিব আহসান মুন্না, সদস্য, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটি ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক,আকবারুল হাসান মিল্লাত, সম্পাদক, দৈনিক সোনারদেশ,মর্শেদা বেগম ডেজি, জেলা কমিটি প্রতিনিধি,অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, অধ্যক্ষ, নাচোল ডিগ্রি কলেজ,জুলফিকার আহমেদ গোলাপ, সভাপতি, রাজশাহী জেলা কমিটি,ডক্টর অলক মজুমদার, সভাপতি, পাবনা জেলা কমিটি।
এ ছাড়া রাজধানী ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও ঐতিহাসিক অবদান:-
বিপ্লবী ইলা মিত্র ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলায়। কমিউনিস্ট রাজনৈতিক নেতা কমরেড রমেন মিত্রের সাথে বিবাহসূত্রে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আগমন করেন।
পরবর্তী সময়ে অবিভক্ত বাংলায় জমিদারি প্রথা ও সামন্তবাদী শোষণের বিরুদ্ধে সাঁওতাল ও সাধারণ কৃষকদের ‘তেভাগা আন্দোলন’ (ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ কৃষকের পাওয়ার লড়াই)-এ তিনি ঐতিহাসিক নেতৃত্ব দেন। শোষিত ও অনগ্রসর সাঁওতাল সম্প্রদায় তাঁর অসামান্য নেতৃত্ব ও পরম মমতায় তাঁকে ‘রাণীমা’ উপাধিতে ভূষিত করে।
ইলা মিত্রের এই ঐতিহাসিক স্মৃতি ও আন্দোলনকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা ব্যক্ত করেন।