রাজশাহীতে বিআরটিসির টিকিট কাউন্টার নিয়ে বিরোধ, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
রাজশাহীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসের টিকিট বিক্রির কমিশন এজেন্ট নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। কাউন্টারের অবস্থান, দূরত্ব, ডিপোর নিয়ন্ত্রণ ও বাসপ্রতি অর্থ আদায় নিয়ে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল। এবার টিকিট বিক্রির ক্যাশ কাউন্টার থেকে জোরপূর্বক অর্থ নিয়ে যাওয়া এবং প্রতিনিধিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে লিখিত অনুমতি ছাড়াই নতুন কাউন্টার স্থাপনের অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিয়ে রাজশাহীতে বিআরটিসির টিকিট বিক্রির কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
বিআরটিসির রাজশাহী সিটির কমিশন এজেন্ট আল আমিন সরকার টিটু গত ২৬ আগস্ট রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই ঘটনায় রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজশাহী নগরীর রাজীব চত্বরে বিআরটিসির টিকিট বিক্রির কাউন্টারে নিয়োগপত্র ছাড়াই অপু সাহা (অপূর্ব) নামের এক ব্যক্তি ক্যাশ কাউন্টার থেকে জোরপূর্বক অর্থ নিয়ে যান। এ সময় টিটুর সহকারী প্রতিনিধি মো. কাজী রাজীব হাসান তাঁকে মৌখিকভাবে সতর্ক করলে ওই প্রতিনিধিকে কাউন্টারে না আসার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রতিকার চেয়েছেন টিটু।
অন্যদিকে, বিআরটিসির লিখিত অনুমতি ছাড়াই নগরীর টিবি পুকুর রোডে নতুন টিকিট কাউন্টার স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে ব্যানারও টাঙানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীর বিআরটিসি ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন বিআরটিসির টিকিট বুকিং প্রতিনিধি হিসেবে সাময়িকভাবে মইনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নগরীর রেলগেট, গোরহাঙ্গা গোরস্থান, শিরোইল বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে মার্কেট ও বন্ধগেট এলাকায় টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পান তিনি।
এর প্রায় দুই মাস পর, গত ২৪ আগস্ট আল আমিন সরকার টিটুর সঙ্গে বিআরটিসির নতুন করে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে তালাইমারী, ভদ্রার মোড়, রাজীব চত্বর, কুমারপাড়া, রাজশাহী কোর্ট ও নগর ভবন এলাকায় ছয়টি টিকিট কাউন্টার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে।
একই নগরীতে দুজনকে টিকিট বিক্রির দায়িত্ব দেওয়ায় কাউন্টারগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব, অবস্থান ও নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
এদিকে, কুমারপাড়ায় বিআরটিসির আগের বাস ডিপোটি নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। পুরোনো ডিপোর জায়গাটি বর্তমানে টিকিট বুকিং কাউন্টার ও যাত্রীদের বসার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
টিটুর দাবি, টিকিট বিক্রির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিনি ছয়টি কাউন্টারে দুজন করে কাউন্টার মাস্টার নিয়োগ দিয়েছেন। পাশাপাশি সহকারী প্রতিনিধি ও মনিটরিং অফিসারও নিয়োগ করা হয়েছে। এরপরও কাউন্টারে অর্থ নেওয়া ও প্রতিনিধিকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।