রাজশাহীতে এলপিজি সংকট-মূল্যবৃদ্ধিঃ বিপাকে সাধারণ ক্রেতা, ঝুঁকছেন বিকল্প জ্বালানির দিকে

LPG crisis in Rajshahi-price hike
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫৩ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে এলপিজি সংকট-মূল্যবৃদ্ধিঃ বিপাকে সাধারণ ক্রেতা, ঝুঁকছেন বিকল্প জ্বালানির দিকে

রাজশাহীতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করেছে।

 নিত্যপ্রয়োজনীয় এই জ্বালানির দাম লাগামহীনভাবে বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে রান্নার জ্বালানি হিসেবে অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছেন।


​স্থানীয় বাজার ঘুরে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাত্র এক মাস আগেও ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডার ১৭৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কিনতে হচ্ছে ২১০০ থেকে ২৩০০ টাকায়। 

যদিও সরকারিভাবে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে খুচরা বাজারে এর কোনো কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না।


​দামের অতিরিক্ত চাপের পাশাপাশি বাজারে দেখা দিয়েছে ব্র্যান্ড সংকট। চাহিদামতো নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির সিলিন্ডার না পেয়ে অনেক ক্রেতা বাড়তি অর্থ দিয়ে অন্য ব্র্যান্ডের গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া নতুন সিলিন্ডার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জামানত ও অন্যান্য খরচসহ গ্রাহকদের প্রায় ৩৪০০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।


​নগরের টিকাপাড়ার বাসিন্দা ইব্রাহিম  বলেন, "মাস খানেক আগেও ১৭৫০ টাকায় গ্যাস কিনেছি, যা এখন ২১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে দাম বৃদ্ধির ফলে সংসার খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।"


​ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সব ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। সাগরপাড়া বটতলার গ্যাস বিক্রেতা মোজাহার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বৃষ্টি খাতুন জানান, পাইকারি পর্যায়েই বেশি দামে কিনতে হওয়ায় এবং পরিবহন খরচ বাড়ায় এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।

 অন্যদিকে তেরখাদিয়া উত্তরপাড়ার বিক্রেতা এসগুল মণ্ডল জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে ক্রেতাদের চাহিদামতো সিলিন্ডার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।


​নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের গ্যাস না পাওয়া এবং বাড়তি দাম এড়াতে অনেক পরিবার রান্নার কাজে ইলেকট্রিক চুলার মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার শুরু করেছেন।

 তেরখাদিয়া ডাবতলার বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম জানান, বাধ্য হয়েই তিনি বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলার ব্যবহার বাড়িয়েছেন।


​বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, "গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে অনেকেই ইলেকট্রিক চুলার মতো বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।"


​একইভাবে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, "সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ও দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। ভোক্তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা প্রয়োজন।"