রাজশাহীতে গির্জায় ধর্ষক ফাদারের রায় ১২ জুলাই
রাজশাহীর তানোরের বহুল আলোচিত একটি গির্জায় ফাদার কতৃক কিশোরী ধর্ষণ মামালার রায় হতে যাচ্ছে।
দীর্ঘ ৬ বছর পর বহুল আলোচিত ও স্পর্শকাতর মামলাটির ১২ জুলাই রায় ঘোষনা করা হবে রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে।
জানা গেছে,২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে,রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বাড়ির পাশে ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর স্থানীয় একটি গির্জা থেকে এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ।ওই কিশোরীকে সাধুজন মেরী গির্জার কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে তৎকালীন ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন কিশোরী বড় ভাই স্বপন হাঁসদা।প্রায় ছয় বছর আগের ওই মামলার রায় আগামী রোববার (১২ জুলাই) ঘোষণা করা হবে।
মামলার বাদী স্বপন হাঁসদা এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমরা প্রায় ছয় বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি।আমার বোনকে গির্জা থেকে উদ্ধারের পর তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জেনে আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছিলাম। এত বছর মামলা চালাতে গিয়ে আমাদের পরিবারকে মানসিক ও সামাজিকভাবে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন,আমরা আদালতের কাছে আসামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’
জানাগেছে, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা মাহালীপাড়া এলাকার ওই কিশোরী বাড়ির পাশে সাধুজন মেরী গির্জার কাছে ঘাস কাটতে যায়। দীর্ঘ সময় পরও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। আত্মীয় স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর কিশোরীর ভাই স্বপন হাঁসদা তানোর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তার সন্ধান চালিয়ে যেতে থাকেন।
এক পর্যায়ে ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর তাঁরা জানতে পারেন, কিশোরীটি গির্জার তৎকালীন ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীর কক্ষে আটকে রয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন গির্জার কাছে জড়ো হয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গির্জা থেকে কিশোরীটিকে উদ্ধার করে তানোর থানায় নেওয়া হয়। পরে তার কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ জানার পর ওই রাতেই বড়ো ভাই স্বপন হাঁসদা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় গির্জার তৎকালীন ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে একমাত্র আসামি করা হয়। ঘটনার সময় তাঁর বয়স প্রায় ৪০ বছর ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তানোর থানায় করা মামলাটির এফআইআর নম্বর ১১। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।মামলার অভিযোগে বলা হয়, কিশোরীটিকে গির্জার কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছিল।
বাদীপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এরপর আদালত মামলার রায় ঘোষণার জন্য রোববার (১২ জুলাই) দিন ধার্য করেন।