পূর্বঞ্চল রেলের নিরাপত্তা বাহিনী,স্প্রিট মানি দিলেই মিলছে সুবিধাজনক স্থানে বদলি ও পদায়ন
রেলওয়ের সম্পদ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) পূর্বাঞ্চলে বদলি ও পদায়ন নিয়ে আবারও অভিযোগ উঠেছে।
রেলের গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীটির বিভিন্ন পদে একের পর এক বিতর্কিত আরএনবি সদস্যদের পদায়নের ঘটনায় বাহিনীটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।, মোটা অঙ্কের স্প্রিট মানি দিলেই মিলছে সুবিধাজনক স্থানে পোস্টিং। আর এই সিন্ডিকেটের হাত ধরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের সবচেয়ে সংবেদনশীল ‘অস্ত্র শাখা’ ও ‘জেনারেল শাখা’র চাবিকাঠি চলে গেছে মাদক মামলার অন্ধকার রেকর্ডভুক্ত আসামি ও বিভাগীয় তদন্তাধীন বিতর্কিতদের পকেটে।
অভিযোগ উঠেছে, খোদ পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সুবক্তগীন এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) প্রধান জহিরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ও আর্থিক স্বার্থেই এই বেপরোয়া বদলি ও পদায়ন চলছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশনের অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ‘অস্ত্র শাখার’ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাবিলদার শোয়াইবকে, যিনি ষোলশহর রেলওয়ে ষ্টেশনে হাবিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একাধিক সূত্র তার অপরাধের রেকর্ড রীতিমতো ভয়ংকর বলে নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র বোলছে,অভিযুক্ত শোয়াইব ২০১০ সালে নায়েক হিসেবে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগদান করে। এর মাত্র দু’বছরের মাথায় ২০১২ সালে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি মাদক মামলার আসামী হয়ে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় সে ২০১৮ সালে মামলা চলাকালীন সময়েই হাবিলদার পদ বাগিয়ে নেন।
পরবর্তীতে, বিগত সাত বছর ধরে চট্টগ্রাম নতুন ও পুরাতন স্টেশনে মাদক স্পট এবং টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে মিরসরাই এলাকায় অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন ।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে তিনি ষোলশহর স্টেশনে পোস্টিং নেন।
তবে স্থান বদলালেও তার চাঁদাবাজি থামেনি। ষোলশহর ষ্টেশনে সিপাহী আশীষ বড়ুয়াকে ব্যাক্তিগত ‘ক্যাশিয়ার’ বানিয়ে ষোলশহর, ২ নম্বর গেট, অক্সিজেন ও মুরাদপুর রেলগেটের আশপাশের দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা থেকে লাখ লাখ টাকা মাসোহারা তুলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে দিকে চট্টগ্রাম স্টেশনের অন্যতম স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্ট ‘জেনারেল শাখা’র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাবিলদার জসিম উদ্দিন সরকারকে। ইতিপূর্বে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ‘ডাকাত জসিম’ শিরোনামে ও রেলওয়ে ইঞ্জিনের লিড ক্যবল চুরিসহ তার দূর্নীতি নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও অদৃশ্য চাপে এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এসব বিষয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রমানসহ তার অফিসে যেতে বলেন।
গুরুতর অপরাধের বিভাগীয় তদন্তাধীন এবং মাদক মামলার অন্ধকার রেকর্ডধারী আসামিরা কিভাবে স্টেশনের আইন-শৃঙ্খলা ও অস্ত্রাগার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পান এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।