টানা বৃষ্টিতে রূপগঞ্জে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

50,000 people stranded in Rupganj due to continuous rain
অনলাইন ডেস্ক ১২ জুলাই ২০২৬ ০৫:৩৬ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ১২ জুলাই ২০২৬ ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
টানা বৃষ্টিতে রূপগঞ্জে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি
--সংগৃহীত ছবি

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় নির্মাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার রাস্তা-ঘাট ও ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতায় বন্যায় রূপ নিয়েছে। এতে করে শিশু থেকে শুরু করে অর্ধশতাধীক নারী-পুরুষ ঠান্ডা জনিত ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার নির্মাঞ্চল এলাকাগুলোতে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে এ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। উপজেলার কাঞ্চন হাটাবো টেকপাড়া, কালাদি, নলপাথর, নরাবো, কুশাব, আইতলা, ডুলুরদিয়া,তারাবো, বরপা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, বাগমোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, শান্তিনগর, বাগানবাড়ি, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামুড়া, রূপসী ও ভূলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাব, পাচাইখা ও ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকায় এখন জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাড়ির উঠোনেই পানি হাঁটু পরিমাণ। অনেকের বসত ঘরে ২-৩ ফুট পানি। রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে নলকূপ পানিতে তলিয়ে গেছে। সেসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। এ ছাড়া শিল্প-কারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানির দূষণে রোগাক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, উপজেলার নিচু এলাকার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। জলাবদ্ধতায় অতিকষ্টে চলছে নিম্নআয়ের মানুষের জীবন। কারখানার নির্গত বর্জ্য জলাবদ্ধ পানিতে মিশে কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করেছে। এ পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানির কীট-পতঙ্গসহ মাছ মরে যাচ্ছে। আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশন খাল গুলো অবৈধভাবে দখল ও ভরাটের কারণে বৃষ্টি হলেই উপজেলার নির্মাঞ্চল গুলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এদিকে তারাবো পৌরসভা, ভুলতা ইউনিয়ন, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন ও কাঞ্চন পৌর এলাকাসহ বেশ কিছু জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রভাবশালী মহল কর্তৃক খাল দখল ও ভরাটের কারণে অল্প বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে এই জলাবদ্ধতা।

শান্তিনগর এলাকার গৃহিণী সাদিয়া আক্তার বলেন, ঘর থেকে বের হতে পারছি না। চুলায় আগুন জ্বালাতে পারি না। বিশুদ্ধ পানি নেই। আমাদের বাড়িঘরে হাঁটুসমান পানি উঠেছে। জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ির অনেক ভাড়াটিয়া এ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। ঠান্ডা, সর্দি, চর্ম ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে।

তেতলাব এলাকার মোবারক হোসেন বলেন, ১৪-১৫ বছর ধরে এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের বাঁচতে হচ্ছে।

কালাদী এলাকার আলী হোসেন বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই আমাদের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। আমাদের খাল নেই, খালগুলো বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান দখল করে রেখেছে। এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা রূপ নিচ্ছে।

‎রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদল কুমার সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ইদানিং চর্ম ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা তাদের চিকিৎসা ও ওষুধপত্র দিচ্ছি। তবে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।