আশাবাদী মানুষ কেন বেশি সফল ও সুখী হন, জেনে নিন

Why optimistic people are more successful and happier
অনলাইন ডেস্ক ১২ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪০ অপরাহ্ন লাইফস্টাইল
অনলাইন ডেস্ক ১২ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪০ অপরাহ্ন
আশাবাদী মানুষ কেন বেশি সফল ও সুখী হন, জেনে নিন
--সংগৃহীত ছবি

কেউ কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েই ভেঙে পড়েন, আবার কেউ একই পরিস্থিতিতেও নতুন সম্ভাবনা খুঁজে নেন। দু জনের জীবনেই হয়তো একই রকম চ্যালেঞ্জ থাকে, কিন্তু মানসিক অবস্থায় থাকে বড় পার্থক্য। এই পার্থক্যের নামই আশাবাদ। অনেকেই মনে করেন, আশাবাদী হওয়া মানে শুধু ইতিবাচক কথা বলা। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আশাবাদ আসলে এমন একটি মানসিক অভ্যাস, যা মানুষকে কঠিন পরিস্থিতিতেও সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। গবেষণাও বলছে, আশাবাদী মানুষেরা শুধু মানসিকভাবেই নয়, শারীরিকভাবেও তুলনামূলক ভালো থাকেন।

এই ইতিবাচক মানসিকতার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর ১২ জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক আশা দিবস। দিনটি মনে করিয়ে দেয়, প্রতিকূলতা যতই বড় হোক না কেন, আশা হারিয়ে না ফেলাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই জেনে নিন, আশাবাদী মানুষ কি সত্যিই বেশি সুখী এবং এ বিষয়ে কী বলছে গবেষণা।

হার্ভার্ড টি. এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ -এর গবেষণায় দেখা গেছে, আশাবাদী মানুষের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে, ইতিবাচক মানসিকতা মানসিক চাপ কমাতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আশাবাদী মানুষ ব্যর্থতাকে জীবনের শেষ হিসেবে দেখেন না। তারা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার নতুনভাবে শুরু করার সাহস পান। ফলে হতাশা বা উদ্বেগ তাদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখতে পারে না।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ মানুষের শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ঘুম, মনোযোগ ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আশাবাদী মানুষ সাধারণত চাপ মোকাবিলার স্বাস্থ্যকর উপায় খুঁজে নেন। তারা প্রয়োজন হলে অন্যের সাহায্য নেন, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সক্রিয় থাকেন। ফলে উদ্বেগ ও হতাশার ঝুঁকিও অনেক ক্ষেত্রে কম থাকে।

সম্পর্ক আরও সুন্দর হয়

আশাবাদী মানুষ সাধারণত অন্যদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখেন। তারা সহজে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, ছোট ছোট সাফল্য উদ্‌যাপন করেন এবং সম্পর্কের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী হন। এ কারণে পরিবার, বন্ধু কিংবা কর্মক্ষেত্রে তাদের সম্পর্কও তুলনামূলক দৃঢ় হয়।

কর্মক্ষেত্রেও সুফল পাওয়া যায় 

চাকরি বা ব্যবসায় সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোয় না। আশাবাদী মানুষ ব্যর্থতাকে স্থায়ী মনে না করে নতুন সুযোগ খুঁজতে চেষ্টা করেন। এই মানসিকতা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং দলগত কাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সমাধানে মনোযোগ 

কঠিন সময় এলে অনেকেই শুধু সমস্যার দিকেই তাকিয়ে থাকেন। এতে উদ্বেগ ও ভয় আরও বাড়ে। কিন্তু আশাবাদী মানুষ পরিস্থিতিকে বিশ্লেষণ করে ছোট ছোট সমাধানের পথ খুঁজতে চেষ্টা করেন। তারা জানেন, সব সমস্যার সমাধান একদিনে হয় না। তবে এক ধাপ করে এগোলে পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এই দৃষ্টিভঙ্গিই মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

আশাবাদ জন্মগত বৈশিষ্ট্য হলেও এটি অনুশীলনের মাধ্যমেও গড়ে তোলা যায়। প্রতিদিন অন্তত তিনটি ভালো ঘটনার কথা লিখে রাখতে পারেন। নিজের সাফল্য যত ছোটই হোক, সেটিকে গুরুত্ব দিন। নেতিবাচক খবরের ভিড়ে কিছু সময় বই পড়া, প্রকৃতির কাছে থাকা বা প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস করুন। নিজের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কথা বলাও গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমি পারব না’ বলার বদলে ‘আমি চেষ্টা করব’-এই ছোট পরিবর্তনও মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জীবনে সমস্যা আসবেই। কিন্তু সেই সমস্যার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায় আশা। আশাবাদী হওয়া মানে সব সময় সুখী থাকা নয়, বরং কঠিন সময়েও বিশ্বাস রাখা যে আগামীকাল আজকের চেয়ে ভালো হতে পারে। তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসই হতে পারে আরও সুখী ও সুন্দর জীবনের শুরু।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, মিডিয়াম