রাজশাহীতে প্রাথমিক বৃত্তির ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি

Demand for revaluation of primary scholarship results
ছোটন সরদার ১৬ জুলাই ২০২৬ ০৫:১২ অপরাহ্ন সারা বাংলা
ছোটন সরদার ১৬ জুলাই ২০২৬ ০৫:১২ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে প্রাথমিক বৃত্তির ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশোধিত ফল প্রকাশের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশোধিত ফল প্রকাশের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেনের কাছে দেওয়া হয়।


মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে অভিভাবক ড. আজিবর রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ফলাফলের বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও কমছে।

তিনি বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বর্ণ বলে, সে ভালো পরীক্ষা দিয়েছে এবং খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হলে বৃত্তি পাওয়ার আশা করছে। তাই খাতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানায় সে।

মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফলাফলের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রয়োজন হলে খাতা পুনর্মূল্যায়ন করে সংশোধিত ফল প্রকাশ, কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক ফল প্রকাশব্যবস্থা চালু, গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবহিত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধিত ফল প্রকাশ।

অভিভাবকদের অভিযোগ, রাজশাহী শহরের ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৩৮ শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি। এসব শিক্ষার্থী রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিল। ওই কেন্দ্র থেকে একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়ায় ফলাফল প্রস্তুতে কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটি হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।

রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, এই কেন্দ্রে ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু প্রকাশিত ফলে কেন্দ্রটির একজন শিক্ষার্থীরও নাম বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় না থাকায় বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।

একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারহানা খাতুন বলেন, এবার তাঁদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিল। একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে বৃত্তি পরীক্ষায় নিবন্ধিত ১৩ হাজার ১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৮৩ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৯০৯ জন বৃত্তি পেয়েছে। তবে একটি কেন্দ্রের ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে দেখা দেওয়া জটিলতায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিভাবকদের লিখিত আবেদন পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। তাঁর ভাষ্য, এত সংখ্যক খাতা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলাফল প্রস্তুতের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। এবার প্রথমবারের মতো ওএমআর পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।