আর্জেন্টিনা-স্পেন: রোড টু ফাইনাল

2026 FIFA World Cup
অনলাইন ডেস্ক ১৬ জুলাই ২০২৬ ০৫:২০ অপরাহ্ন বিশ্বকাপ আপডেট
অনলাইন ডেস্ক ১৬ জুলাই ২০২৬ ০৫:২০ অপরাহ্ন
আর্জেন্টিনা-স্পেন: রোড টু ফাইনাল
--সংগৃহীত ছবি

শেষ হলো বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের অপেক্ষার প্রহর। অবশেষে নির্ধারণ হয়ে গেল চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্টের। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিন স্পেন। আর বুধবার দিবাগত রাতে ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনা: ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের লড়াকু মানসিকতা

বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ফাইনালের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রতিটি ম্যাচেই চরম স্নায়ুচাপ ও কঠিন পরীক্ষা দিয়ে ফাইনালে উঠতে হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলকে। যদিও গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ছিল অপ্রতিরোধ্য। প্রতিটি ম্যাচই জিতেছে দাপুটের সঙ্গেই।

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন লিওনেল মেসি। পরের ম্যাচে দুটো গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আর দলও জেতে ২-০ গোল ব্যবধানে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মোকাবিলা করে তিনবারের শিরোপাজয়ী দলটি।

শেষ ১৬ (আর্জেন্টিনা বনাম মিশর): নকআউটের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। মিশরের বিপক্ষে ২ গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পরও অবিশ্বাস্য মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ম্যাচ ঘুরে দাঁড়ায় এবং ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়।

কোয়ার্টার ফাইনাল (আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড): সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি গড়ায় ১২০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়ে দলের দুই স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজের জোড়া আঘাতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিরোধ ভেঙে সেমিতে ওঠে আর্জেন্টিনা।

সেমিফাইনাল (আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড): কেইন-বেলিংহামের উড়ন্ত ইংল্যান্ডকে রুখে দেওয়ার কঠিন সমীকরণ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ে ইংলিশদের উইং আক্রমণ নসাৎ করে এবং চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৮ গোল) লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভর করে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায় আর্জেন্টিনা।

স্পেন: লা রোহাদের নিখুঁত আধিপত্য

গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা খেলেছে রাজকীয় ফুটবল। গ্রুপ পর্বের বাধা অনায়াসে পার করার পর নকআউট পর্বেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি জিততে পারেনি স্প্যানিশরা। নবাগত ক্যাপ ভার্দের বিপক্ষে তারা ড্র করেছিল গোল ব্যবধানে। তবে পরেই ম্যাচে দেখা পায় স্পেনের দাপট। সৌদি আরবকে উড়িয়ে দেয় ৪-০ গোল ব্যবধানে। আর শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোল ব্যবধানে হারিয়েছে স্প্যানিশরা।

কোয়ার্টার ফাইনাল (স্পেন-বেলজিয়াম): বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল স্পেন। তবে ম্যাচের ৪৩ মিনিটে মিকেল মেরিনোর নাটকীয় ও দর্শনীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে স্প্যানিশরা।

সেমিফাইনাল (স্পেন-ফ্রান্স): কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে মাঠে নামে স্পেন। তবে ফরাসিদের কোনো সুযোগই দেয়নি তারা। নিখুঁত পাসিং ফুটবল আর দুর্দান্ত রক্ষণভাগে ভর করে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে পা রাখে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

মেগা ফাইনালের অপেক্ষায় বিশ্ব

একদিকে তরুণ ও গতিময় স্পেনের টিকি-তাকা ফুটবল, অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দলের লড়াকু ও অভিজ্ঞ মানসিকতা। আগামী রবিবার নিউ জার্সিতে কে হাসবে শেষ হাসি, সময়ই তা বলে দেবে।