চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন
আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান জীবন ও সুস্থতা সুরক্ষায় তাদের অবদান এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ আয়োজন করেন। রবিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে একটি র্যালি বেরিয়ে উদয়ন মোড়,নিউ মার্কেট, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে জেলা মঞ্চের সমাবেশে যোগদান করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কর্নেলিয়াস মুরমু। সংগঠনের তথ্য যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন
সভাপতি বাংলাদেশ পূজা উদযান কমিটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা ডাবলু কুমার ঘোষ, সহকারী স্টেশন ম্যানেজার রেডিও মহানন্দা রেজাউল করিম টুটুল, কোল আদিবাসী নেত্রী কল্পনা মুর্মু, আদিবাসী যুব নেতা সিপানয়েল হেমব্রম, সমাজ উন্নয়ন কর্মী নিকোলাস মুরমু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা, মনিকা সরেনসহ অন্যরা। প্রদীপ হেমব্রম সমাবেশের বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের কাছে ০৭ দফা দাবি পেশ করে।
১. সংবিধানে 'আদিবাসী' পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। ২. সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। ৩. আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমি দখল বন্ধ করে কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ৪. আদিবাসীদের সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাজধানীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ৫. সাঁওতালসহ সকল আদিবাসী শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালু করতে হবে। ৬. জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
৭. আদিবাসী ভূমিপত্র আলফ্রেড সরেন, চুডু সরেন, বাগদা ফার্মের তিন সাঁওতাল নেতা শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডী, রমেশ টুডু, চলেশ রিছিল, পীরেন স্নালসহ সমতল ও পাহাড়ে সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে এবং আদিবাসীদের ভুমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
বিশ্বের সব আদিবাসীর অধিকার, শত বছরের সমৃৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ উপকমিশনের কর্মকর্তারা তাদের প্রথম সভায় ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৩ সালকে জাতিসংঘ প্রথমবার বিশ্বে আদিবাসী বর্ষ ঘোষণা করে। পরের বছর ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতি বছর ৯ আগস্টকে বিশ্ব আদিবাসী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৯৪ সালে বিশ্বে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। ওই বছর থেকে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করা শুরু হলেও বাংলাদেশে দিবসটি পালন শুরু হয় ২০০১ সালে। সে বছর ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ওই সংগঠনের মাধ্যমেই প্রতি বছর বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে বৃহৎ পরিসরে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। সে হিসেবে বিশ্বে দিবসটি ৩২তম হলেও বাংলাদেশে আজ ২৬তম আদিবাসী দিবস পালিত হচ্ছে। বিশ্ব আদিবাসী দশক, বর্ষ ও দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আদিবাসী জনগণের মানবাধিকার, পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করা ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করা।