রাবিতে ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, রাকসু জিএসের নেতৃত্বে ‘জুলাই জিয়াফত’

Cow slaughter in the name of 'Bakshal' in Rabi,
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী: ১৫ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৩৬ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী: ১৫ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
রাবিতে ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, রাকসু জিএসের নেতৃত্বে ‘জুলাই জিয়াফত’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিন ১৫ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে এ আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়।


আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। এ উপলক্ষে গুগল ফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়। তবে আয়োজনটি রাকসুর ব্যানারে হলেও একাধিক রাকসু প্রতিনিধি এর সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আম্মারও দাবি করেছেন, আয়োজনের সঙ্গে রাকসুর কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।


সরেজমিনে দেখা যায়, জোহরের নামাজ শেষে দুপুর পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন। তারা ছোট ছোট দলে সেখানে অপেক্ষা করেন। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য মসজিদের সামনে ঘাসের ওপর ত্রিপল বিছানো হয়। এর আগে রাকসু ভবনের ভেতরে খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করে রাখা হয়। দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে রাকসু ভবন থেকে ভ্যানে করে খাবার নিয়ে আসতে দেখা যায়।


আয়োজন নিয়ে রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, ‘আজকের গরুভোজে রাকসুর পক্ষ থেকে কোরবানি হচ্ছে কি না—আমি তা জানি না। এতটুকু আমি স্পষ্ট করি, এই আয়োজনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রাকসুর ব্যানারে কারা আয়োজন করছে, সে বিষয়ে তারা এখনো স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি।’


তিনি আরও বলেন, ‘রাকসুর যারা এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিবৃতি আকারে কোরবানির বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।’


শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ এ আয়োজনের সমালোচনা করে বলেন, ‘এখানে মাঠও আমাদের, প্লেয়ারও আমাদের, রেফারিও আমাদের। তাই শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে আমরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করি। এখানে প্রশ্ন করার কেউ নেই। এটি কি রাকসুর টাকা? আর যদি রাকসুর টাকা না হয়, তাহলে কি জাকাতের টাকা?’


এর আগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে এক ভিডিও বার্তায় ভোজের ঘোষণা দেন সালাহউদ্দিন আম্মার। নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্ট আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমাদের যে প্রাণপ্রিয় গরুটা আনতে পারছি, তার নাম দেওয়া হয়েছে বাকশাল। এই বাকশালটাকে আমরা কোরবানি করে আমরা উদযাপন করব। এটাকে জুলাই জিয়াফতও বলতে পারেন, জুলাইয়ের আপ্যায়ন।’


এ ছাড়া মধ্যরাতে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘১৫ আগস্ট রাতেই বাকশালরে শুয়াইয়া দিলাম। আমি মেজর সালাহউদ্দিন আম্মার বলছি।’


আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আজ বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি। সে জন্য গরুর নাম বাকশাল রাখা হয়েছে। শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে রাকসুর সব সদস্য এতে একমত হয়নি। পরে আমাদের এক ভাই এটি উপহার দিয়েছেন। এখানে রাকসু জড়িত নয়।’


তবে আয়োজনের প্রচারণা, রাকসু ভবনে খাবার প্রস্তুত এবং রাকসুর ব্যানার ব্যবহারের বিষয়ে একাধিক প্রতিনিধির বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। ফলে আয়োজনটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ, নাকি রাকসুর কোনো অংশের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ—এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা তৈরি হয়েছে।