আদিবাসী গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ, তানোর থানায় মামলা
রাজশাহীর তানোরে এক আদিবাসী গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. হাফিজ মণ্ডল (৪৫), পিতা মৃত আজিজ মন্ডল,নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তানোর থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী সনজনা রানী (২৫) তানোর উপজেলার ৪ নং সরনজাই ইউনিয়নের নবনবী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মাল পাহাড়িয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।
অভিযোগে সনজনা রানী বলেন, হাফিজ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে একা পেলে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি বিষয়টি স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের জানান। এরপর ওই ব্যক্তি তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ তাঁর।মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১০ আগস্ট তাঁর স্বামী কাজের জন্য দুপুর সাড়ে তিনটায় ফরিদপুরে যান। রাত সাড়ে নয়টায় খাওয়া শেষে সনজনা রানী তাঁর ছেলে-মেয়েকে নিয়ে শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে বিদ্যুৎ চলে গেলে তাঁরা শয়নকক্ষ থেকে বের হয়ে বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তারিখ অনুযায়ী ১১ আগস্ট নাঝরাতে হাফিজ মণ্ডল শয়নকক্ষের জানালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বন্ধ করে দিয়ে সনজনা রানীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁর মুখ চেপে ধরে বারান্দায় নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে।
এ সময় সনজনা রানী চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। ব্যার্থ হলে প্রানে মারার হমকি দেয় অভিযুক্ত হাফিজ মন্ডল।চিৎকারে স্থানীয়রা আসলে হাফিজ মন্ডল পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সনজনা রানী স্থানীয় লোকজনের পরামর্শে তানোর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
থানার পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত হাফিজ মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।