পেস দাপটে টাইগারদের অবিস্মরণীয় জয়

An unforgettable victory for the Tigers
অনলাইন ডেস্ক ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:২২ পূর্বাহ্ন খেলা
অনলাইন ডেস্ক ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:২২ পূর্বাহ্ন

এশিয়ার বাইরে জিততে হলে পেস আক্রমণ দিয়েই জিততে হবে। সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের পেসারদের আসন বেশ উচ্চমর্গীয় অবস্থানেই আসীন হয়েছে। কারণ ২০১৯ বিশ^কাপের পর ওয়ানডেতে সাফল্যের দিক থেকে বাংলাদেশী পেসাররা দ্বিতীয় স্থানে। বিশ^কাপে তার ছিটেফোটাও দেখা যায়নি। তাই গত কয়েক বছরে ঈর্ষণীয় কিছু সাফল্য এনে দেওয়া পেস আক্রমণ নিয়ে হঠাৎই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। সেই দুশ্চিন্তা শনিবার নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে লাঘব করেছেন বাংলাদেশী পেসাররা।

নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার এক ম্যাচে প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটই নিয়েছেন তারা। দুই নিয়মিত পেসার শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিবের সঙ্গে অনিয়মিত মিডিয়াম পেসার সৌম্য সরকার আগুন বোলিংয়ে ৩টি করে ৯ উইকেট নিয়েছেন। মুস্তাফিজুর রহমান নিয়েছেন একটি। এতেই বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সর্বনি¤œ ৯৮ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড ৩১.৪ ওভারে। তারপর ৯ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় পায় বাংলাদেশ ১৫.১ ওভারে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কিউইদের বিপক্ষে ১৮ ওয়ানডে হারের পর অবশেষে জিতেছে টাইগাররা ১৬ বছরের চেষ্টায়। সেই জয়ে পুরো অবদান পেসারদের। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তরুণ পেসার তানজিম।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্পিনারদের নিয়েই সবসময় মাতামাতি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ইতিহাস বলছে, পেসাররাই সাফল্যে এগিয়ে স্পিনারদের চেয়ে। এখন পর্যন্ত ৪৩৫ ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ দল। ৬০ জন পেসার ৯ হাজার ৩৪৪.২ ওভার বোলিং করেছে ১৪০২ উইকেট শিকার করেছেন। আর ৬৩ স্পিনার ৯ হাজার ২৮১.২ ওভার বোলিং করে ১২২৮ উইকেট নিয়েছেন। বোলিং গড়েও পেসাররা এগিয়ে। পেসারদের গড় ৩৫.৩৬, স্পিনারদের ৩৫.৭৪। তবে ওভারপ্রতি রান দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে স্পিনাররা (৪.৭২)। পেসাররা ওভারপ্রতি ৫.৩০ রান দিয়েছেন। পেসাররা ১৪ বার ৫ উইকেট ও ৪৪ বার ৪ উইকেট নিয়েছেন।

সেখানে স্পিনাররা ১০ বার ৫ উইকেট ও ৩০ বার ৪ উইকেট নিয়ে অনেক পিছিয়ে। সর্বশেষ ৫ বছরেও বাংলাদেশের পেস আক্রমণ অনেক আস্থা অর্জন করেছে। ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে শনিবার পর্যন্ত কাঁটায় কাঁটায় ৫ বছরে ১৫ পেসার বোলিং করেছেন ১৮৫৪.৫ ওভার এবং ৩১.৭১ গড়ে ৩৩৪ উইকেট এনে দিয়েছেন বাংলাদেশ দলকে। ১১ বার ৪ উইকেট ও ৫ বার ৫ উইকেটও আছে। কিন্তু একই সময়ে ২২৪ ইনিংসে ১৫ স্পিনার ১৫৪৮ ওভার বোলিং করে ২১৬ উইকেট নিতে পেরেছেন ৩৫.১৩ গড়ে। এই সময়ে বাংলাদেশী স্পিনাররা ৭ বার ৪ উইকেট ও ৪ বার ৫ উইকেট নিতে পেরেছেন। 

এবার নিউজিল্যান্ড সফরে দেশের অপরিহার্য দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন চৌধুরী না থাকায় আহামরি কিছু আশা করা যায়নি। অথচ কিউই ভূমিতে পেসারদের স্বর্গরাজ্য। তবু প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশী পেসাররা একেবারে কোণঠাসা ছিলেন। শনিবার হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে জ¦লে উঠেছেন তারাই। বাঁহাতি শরিফুল অবশ্য প্রথম ৩ ওভারেই ১৪ রান দিয়েছেন। কিন্তু প্রথম ওভারে ৫ রান দেওয়া তানজিম পরে ভয়ানক হয়ে ওঠেন। পরবর্তী ৪ ওভারে ১ মেডেনে মাত্র ৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। ২৩তম ওভারে আবার ফিরে এসে মেডেনসহ উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ৭ ওভারে ২ মেডেনে ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। মাত্র পঞ্চম ওয়ানডে খেলতে নেমে প্রথমবার হন ম্যাচসেরা। শরিফুলও যুব বিশ^কাপ দলে তার সতীর্থর ধ্বংসযজ্ঞ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

পরবর্তী ৪ ওভারে আর মাত্র ৮ রান দিয়ে তিনিও ৩ উইকেট তুলে নেন। ৩৩তম ম্যাচে নেমে এখন তার ৫১ উইকেট। মুস্তাফিজ ২৭ ও বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ৩২ ম্যাচে ৫০ উইকেট নিয়ে তারচেয়ে দ্রুততম। তাদের সাফল্য দেখে ১৪তম ওভারে মিডিয়াম পেসার সৌম্যকে আক্রমণে আনা হয়। কিন্তু প্রথম ওয়ানডেতে ৬ ওভারে ৬৩ রান দেওয়া সৌম্য এদিনও প্রথম ৩ ওভারে ১১ রান দিয়েছেন। তবে ২৭তম ওভারে এসে স্বল্প গতির এই পেসার ভয়াল সুইং ও ইয়র্কারের জাদু দেখিয়ে পরবর্তী ৩ ওভারে ১ মেডেনে ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের নজির দেখান (৬-১-১৮-৩)। 

শেষ উইকেটটি মুস্তাফিজ নেন। তাই ৩১.৪ ওভারে ৯৮ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা। গত মার্চে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৩ পেসার হাসান মাহমুদ (৫), এবাদত (৩) ও তাসকিন (২) প্রতিপক্ষের ১০ উইকেট নেন। এবার ওয়ানডেতে মাত্র দ্বিতীয়বার প্রতিপক্ষের ১০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন বাংলাদেশী পেসাররা। তাই বাংলাদেশও দাপট দেখিয়ে ১ উইকেট খুঁইয়ে ৯৯ রান তুলে জয় পায়। প্রথমবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে ওয়ানডে জয় আসে এবং এই প্রথম কিউই সফরে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়ে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ।